ঢাকার বাইরেও বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী


ডেঙ্গু রোগী বেড়েইে চলেছে। সারা দেশে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১ হাজার ৭১২ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ১ হাজার ১৫০ জনই রাজধানীতে। চলতি মৌসুমে ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৫১৩ জন। বুধবার ১৭ হাজার ১৮৩ জনের ডেঙ্গু আক্রান্তের খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম। সরকারি হিসাবে ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ১৪ জন।

এদিকে বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, জুনে হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ১৩৫ রোগী। এর মধ্যে একজন মারা যান। জুলাইয়ে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৪৬৪ জন ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন। এর মধ্যে মারা যান ১০ জন। সব মিলিয়ে এখন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৬১৭ জন। মারা যাওয়ার সংখ্যা ১১ জন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৭০৬ জন। অপরদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা সেবার জন্য খোলা ১৫০ শয্যার ডেঙ্গু সেলকে ২০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সবশেষ তথ্যে দেখা গেছে, রাজধানীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাইরেও ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন জেলার হাসপাতালগুলোতে ৩ হাজার ৪৬৪ ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। ডেঙ্গু নিয়ে নতুন করে যারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২২২ জন রয়েছেন ঢাকা মেডিকেলে। নতুন-পুরোনো মিলিয়ে বর্তমানে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন আছেন ৭০৬ ডেঙ্গু রোগী। এরপর মিটফোর্ড হাসপাতালে ৩৩৭, ঢাকা শিশু হাসপাতালে ১৩২, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ৩২২, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ১৯৭, বারডেম হাসপাতালে ৫৭, পুলিশ হাসপাতালে ১৬৫, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৮৭, বিজিবি হাসপাতালে ৩০, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৩০৫ ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে সর্বমোট ৪ হাজার ৩৩২ জন ভর্তি আছেন, এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৬২৪ জন।
রাজধানীর বাইরে ঢাকা বিভাগের জেলাগুলোতেই সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় এসব জেলার হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ১৪৫ জন, তাদের নিয়ে মোট চিকিৎসাধীন আছেন ২৭৬ জন।
চট্টগ্রাম বিভাগে নতুন ডেঙ্গু রোগী ৯৮ এবং চিকিৎসাধীন ১৫৩ জন, খুলনা বিভাগে নতুন ৭৬ এবং চিকিৎসাধীন ১৮৩ জন, বরিশাল বিভাগে নতুন ৬৩ এবং চিকিৎসাধীন ১৫১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে নতুন ৬২ এবং চিকিৎসাধীন ১৯৮ জন, রাজশাহী বিভাগে নতুন ৫৮ এবং মোট চিকিৎসাধীন ২১৪ জন, রংপুর বিভাগে নতুন ৩৩ এবং মোট চিকিৎসাধীন ১৪৬ জন, সিলেট বিভাগে নতুন শনাক্ত ৩১ জন এবং মোট হাসপাতালে ভর্তি ৮৯ জন।
বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (অর্থ ও স্টোর) ডা. আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, ডেঙ্গু রোগ নিয়ে পেনিক তৈরি হয়েছে। সে কারণে ডেঙ্গুর আতঙ্ক নিয়ে হাসপাতালে আসছে সুস্থ মানুষও। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার ৪৬৫ জনের রক্ত নিয়ে এনএস-১ পরীক্ষা করার পর মাত্র ১৬ জনের ডেঙ্গু রোগের নমুনা পাওয়া গেছে। তাহলে এখানেই স্পষ্ট যে, ডেঙ্গু আক্রান্তের চেয়ে আতঙ্কই বেশি। পেনিকের কারণে ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে মানুষ হাসপাতালে আসছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সামগ্রিক সুন্দর ব্যবস্থাপনায় ডেঙ্গু রোগীকে চিকিৎসা দিচ্ছে। আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানান তিনি।
বিএসএমএমইউতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে চিকিৎসা সেবার জন্য খোলা ১৫০ শয্যার ডেঙ্গু সেলকে ২০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু সেলে ২৪২ রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বহির্বিভাগে তিন দিনে পাঁচ শতাধিক ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বি ব্লকের ডা. মিল্টন হলে ডেঙ্গু সেলের কার্যক্রম সম্পর্কিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান বিএসএমএমইউ প্রোভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ রফিকুল আলম।
ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল হান্নান, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোজাফফর আহমেদ প্রমুখ।
অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ রফিকুল আলম জানান, ৩১ জুলাই সকাল ৮টা থেকে ১ আগস্ট সকাল ৮টা পর্যন্ত ৩০ জন নতুন রোগী ভর্তি হন। আগের ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৯৭ জন। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত আরও ১২ জন রোগী ভর্তি হন। সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত ১৩৯ রোগী ভর্তি রয়েছেন। মেডিসিন ওয়ার্ড, শিশু ওয়ার্ড, ডেঙ্গু চিকিৎসা সেল, কেবিন, আইসিইউ ও এইচডিইউতে এসব রোগী ভর্তি আছেন।
অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে ৬০ উন্নতমানের শয্যা ক্রয় করা হয়েছে। ডেঙ্গু রোগীর জন্য এ পর্যন্ত ১০ লক্ষাধিক টাকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধ বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে। প্রতিনিধিদের খবর-
শরীয়তপুর : শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার জবর আলী আকন কান্দি গ্রামের বর্ষা আক্তার (২৬) নামে এক স্কুলশিক্ষিকা ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। মঙ্গলবার রাতে ঢাকার সাইনবোর্ড এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি মারা যান। বর্ষা স্থানীয় শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার শাহেদ আলী মাদবরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ছিলেন। এছাড়াও শরীয়তপুর জেলা থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরে ১৮ জন আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চারজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মাদারীপুর : মাদারীপুরে বাড়ছে ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। জেলার সদর হাসপাতালে এখন পর্যন্ত চিকিৎিসা নিয়েছেন ২১ রোগী। বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন সাতজন। এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও ভর্তি রয়েছেন আরও আট রোগী। এদিকে বুধবার রাতে ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্ত হয়েছেন শিবচরের সলুব্যাপারীরকান্দি এলাকার ফারুক খান (২২) নামের এক যুবক। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার ইসলামিয়া হাসপাতালে মারা গেছেন।

- সূত্র: ইন্টারনেট

অ্যাম্বুলেন্স হার্বাল ও আয়ুর্বেদিক হোমিওপ্যাথি রুপ চর্চা