শ্বাসনালী বন্ধ হয়ে গেলে জীবন বাঁচাতে কী করবেন ।

Internal Medicine

শ্বাসনালী বন্ধ হয়ে গেলে জীবন বাঁচাতে শ্বাসনালীতে  আলাদা একটা পথ/ছিদ্র করতে হয়। যাকে মেডিকেল সায়েন্সের ভাষায় ট্রাকিওস্টোমী বলা হয়।

যেহেতু সবকিছু গুছিয়ে ট্রাকিওস্টোমী করা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।তাই সার্জারী ওয়ার্ডে প্রফেসর পড়াইছিলেন,জরুরী অবস্থায় রোগীর জীবন বাঁচানোর স্বার্থে যা পাও তা দিয়ে গলায় একটা ছিদ্র করে দিবা।হোক সেটা কলম,হোক কাঁটা চামচ।আমাদের সব শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দুই ছিল রোগীর স্বার্থরক্ষা।আমার প্রফেসর কোনদিন বলেন নাই,বাবা আগে পিঠ বাঁচাবা পরে রোগীর প্রাণ।কিন্তু এদেশ টা এমন হয়ে যাচ্ছে যে, আগে পিঠ, আগে পিঠ,আগে পিঠ।কে মরলো,কে বাঁচলো সেটা মনে হয় আর দেখা যাবে না।

খুন করলে,রেইপ করলে মামলা নিতে গড়িমসি হয়।পত্রিকাওয়ালারা এগুলো ছাপতে চায় না।কিন্তু জরুরী অবস্থায় রোগীর জান বাঁচাতে ঝুঁকি নেয়া ডাক্তারের বিরুদ্ধে নিউজ হবে,মামলা হবে,মানববন্ধন হবে,ফাঁসি হলেও অবাক হবো না।

গতকাল বাঁশি নিয়ে খেলতে গিয়ে দুর্ঘটনাক্রমে শ্বাসনালীতে  বাঁশি আটকে গিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় আরিফ(০৯) নামের এক রোগীকে  সকাল ৭:৩০টার দিকে আধুনিক সদর হাসপাতাল,নাটোর’র জরুরী বিভাগে অচেতন অবস্থায় নিয়ে আসা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তখন রোগীর মরণাপন্ন অবস্থা রোগীর মা’র কাছে ব্যাখ্যা করে রোগীকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে জরুরীভাবে রোগীর শ্বাসনালী কেটে ছিদ্র করে রোগীর শ্বাসপ্রশ্বাস চালু করার চেষ্টা করতে থাকা অবস্থায় রোগী মৃত্যুবরণ করেন।

শ্বাসনালী বন্ধ হয়ে অক্সিজেনের অভাবে রোগী অজ্ঞান আর ক্রমেই খারাপ হয়ে যাচ্ছিল।

চিকিৎসক রোগীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করলে রোগী রাজশাহী পৌঁছার আগেই নিশ্চিত মারা যেতে পারে ভেবে, মানবিক বিবেচনায় চিকিৎসক রোগীকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা করেছিলেন।

রোগী মারা যাবার পরপরই রোগীর স্বজনরা রোগী মারা যাবার জন্য চিকিৎসককে দোষারোপ করে বিলাপ করতে থাকেন।

চিকিৎসক রোগীর গলা কেটে রোগীকে মেরে ফেলেছেন এমন বক্তব্যসম্বলিত সংবাদ গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

একজন মরণাপন্ন রোগীকে বাঁচাতে ঝুঁকি নিলেন যে চিকিৎসক। তিনি আজ জনগণের চোখে খলনায়ক। এমনটি চলতে থাকলে ভবিষ্যতে চিকিৎসকরা হয়ত  গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জরুরি সেবা দিতে গিয়ে নিজে বিপদে পড়তে পারেন এই আশংকায় রোগীকে জরুরি সেবা না দিয়েই উচ্চতর হাসপাতালে রেফার করে দিবেন। এতে কিন্তু আখেরে ক্ষতিটা সাধারন জনগণেরই হবে।ডাক্তাররা কেউ রিস্ক না নিয়ে দিন দিন ঝাঁক ফুকে চলে যাওয়া ছাড়া তো কোন উপায় দেখছি না।

আমরা হলিউডের অনেক সিনেমায় দেখি হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাওয়া রোগীকে বুকে চাপ ও ইলেকট্রিক শকের একটা মেশিন দিয়ে সাধারণ জনগনই বাঁচানোর চেস্টা করে।এটা শুধু সিনেমার কাহিনী না,যাদের বিদেশের অভিজ্ঞতা আছে তারা জানেন এই মেশিনগুলো এয়ারপোর্টে, মার্কেটে তাদের দেয়া থাকে। যেন ইমার্জেন্সি কনডিশনে যে কেউ এগুলো কাজে লাগাতে পারে।আর এই জিনিসটাই যখন আমরা এদেশে আইসিইউ,সিসিইউতে মৃত্যুপথযাত্রী রোগীকে বাঁচাতে করি তখন বলা হয়,বুকে চাপ দিয়ে আমরা রোগী মেরে ফেলছি।

এদেশে ঠাডা পড়া রোগীও মারা গেলে বলে ভালা রোগী ডাক্তার মেরে ফেলছে।ভালা রোগী হাসপাতালে কেন ভর্তি করছেন এটা জিজ্ঞেস করলে আর উত্তর থাকে না।মরার আগে ঔষধ দিলে পত্রিকাওয়ালারা লিখে, ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলছে।ইনজেকশন না দিলে বলবে,বিনা চিকিৎসায় অবহেলায় মারা গেছে।

কী আজব কি সিস্টেম!!!

আমাদের পাঠ্যবইগুলোতে,এসব ব্যাপারে সচেতনতামুলক কিছু না শিখিয়ে শুধু মুঘল সামাজ্র্, কিলিমাঞ্জেরো,ব্যাঙের জীবনচক্র কার স্বার্থে, কেন পড়ায়?

Dr. Iqbal mahmud.

বিশেষজ্ঞ বৃন্দ