সমস্যার নাম মাথাব্যথা


মাথাব্যথা মেডিকেল কন্ডিশনের অন্যতম একটি অসুস্থতা। শতকরা ১৮ ভাগ লোক মাথাব্যথায় ভুগে থাকেন। অনেক সময় বলা হয়, মাথা যার আছে ব্যথা তার হবে। সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে আমরা এ ব্যথা থেকে মুক্ত হতে চাই। আর সেজন্যই আজকের এ লেখা। সুপ্রিয় পাঠক, এ লেখা থেকে আমরা জানতে পারব কীভাবে মাথাব্যথার কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে পারি।
রুমা ফারজানা। বয়স ৪০ বছর। থাকেন ঢাকা শহরের বেইলি রোডে। তিনি ৪ বছর ধরে মাথাব্যথায় ভুগছেন। মাথার উপরিভাগে ব্যথা হয়। মাথা কখনও হালকা এবং কখনও ভারিও মনে হয় আবার বমি বমিও লাগে। মাংসপেশি দুর্বল। মাংসপেশিতে চাপ দিলে ব্যথা পান। ডান দিকে মাথা সম্পূর্ণ ঘোরাতে পারেন না। মাথার পেছন দিকে সুপিরিওর এবং ইনপিরিওর অক্সিপিটো-নিউকিয়াল লাইনের মাঝে চাপ দিলে ব্যথা পান। অর্থাৎ মাথার পেছন দিকে যে হালকা উঁচু অংশ আছে, সেখানে চাপ দিলে ব্যথা হয়। মাথাব্যথা এমন একটি রোগ, যা কোনো কোনো রোগের বহিঃপ্রকাশ মাত্র। রুমা ফারজানা অনেক পরীক্ষা ও চিকিৎসা করেছেন; কিন্তু ব্যথার যন্ত্রণা এখনও বয়ে বেড়াচ্ছেন। মাথার এক্সরে, সিটিস্ক্যান ও এমআরআই করেছেন এবং রিপোর্টে বলা হয়েছে, কোনো অসুবিধা নেই। অসুবিধা না থাকারই কথা। কারণ অসুস্থতা ঘাড়ে, কষ্ট পান মাথায়। যেহেতু এমনটি ঘটে তার কারণ হলো ঘাড়ের নার্ভ সাপ্লাই।
মাথাব্যথার কারণ অনেক। আমরা যেসব মাথাব্যথায় ভুগে থাকি, তার মধ্যে- সার্ভিকো জেনিক হেডেক, ইনফ্লামেশন হেডেক, ট্রাকশন হেডেক, ভাস্কুলার হেডেক এবং টেনশন হেডেক। সাধারণত মাথাব্যথায় ভোগেন ১৮ শতাংশ লোক। এ ১৮ শতাংশের মধ্যে ১৪ শতাংশ লোক সার্ভিকো জেনিক হেডেকে ভোগেন। আমি যে মাথাব্যথার চিকিৎসা করি এবং যে ব্যথার সম্পর্কে এ লেখা, সে মাথাব্যথার নাম সার্ভিকো জেনিক হেডেক।
অর্থাৎ ব্যথা হয় মাথায়; কিন্তু ব্যথার উৎপত্তি ঘাড় থেকে। ঘাড়ের উপরিভাগে অর্থাৎ সি-১-২-৩ লেভেলে কষ্ট থাকে; কিন্তু আমরা কষ্ট পাই মাথায়। ঘাড়ের এ অংশে যেসব স্ট্রাকচারে কষ্ট হলে মাথাব্যথা হয়, তা হলো মাসেল, লিগামেন্ট, জয়েন্ট, ডুরামেটার, ডিস্ক এবং ভার্টিব্রাল আর্টারি। এছাড়া অন্যান্য কারণেও মাথাব্যথা হতে পারে। সার্ভিকো জেনিক হেডেক যে কোনো বয়সে হতে পারে তবে সাধারণত ২০ থেকে ৬০ বছরের লোক এ মাথাব্যথায় বেশি ভোগেন।
রুমা ফারজানাকে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার অন্যতম মোডালিটি-লো লেভেল লেজার থেরাপিসহ প্রয়োজনীয় মোডালিটিস ব্যবহার করতে হবে। ঘাড়ের সফট টিস্যু মোবালাইজেশন মাথাব্যথা কমাতে খুবই সাহায্যে করে। তারপর তার মাসেল কন্ট্রোল ও মাসেলের এন্ডিওরেন্স এক্সারসাইজ করতে হবে। এছাড়াও স্ট্রেসিং, স্ট্রেন্দেনিং ও ফ্লেক্সিবিলিটি বাড়াতে হবে। অবশ্যই মনে রাখতে হবে, ঘাড়ের সব মুভমেন্ট যেন সঠিক হয়। সর্বোপরি রুমা ফারজানার পোশ্চার করেকশন করতে হবে। আশা করি, চিকিৎসা করলে মাথাব্যথা সেরে যাবে।

প্রফেসর আলতাফ হোসেন সরকার
ব্যাকপেইন বিশেষজ্ঞ
লেজার ফিজিওথেরাপি সেন্টার
পান্থপথ, ঢাকা

অ্যাম্বুলেন্স হার্বাল ও আয়ুর্বেদিক হোমিওপ্যাথি রুপ চর্চা