লিভারের রোগ ফ্যাটিলিভার


মানব শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ লিভার। শারীরিক যতেœর অভাবে বা নিয়ম-কানুন না মানার ফলে অন্যান্য অঙ্গের মতো লিভারেও নানা ধরনের রোগ হয়। প্রশ্ন হলো লিভারের রোগ কতটা ঝুঁকিপূর্ণ বা লিভারে কোনো সমস্যা হলে আমরা কী করব? আমি বলব লিভার রোগ নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কারণ, লিভারের রোগ নিয়ন্ত্রণ করা মানুষের সদিচ্ছার উপর নির্ভর করে। লিভারে সাধারণত যে রোগগুলো হয় তার অন্যতম ভাইরাল হেপাটাইটিস। ভাইরাস থেকে জন্ডিস হয়।
যেমন এ ভাইরাস, ই ভাইরাস, সি ভাইরাস সবগুলো থেকে জন্ডিস হতে পারে। এ ভাইরাস, ই-ভাইরাস, সি-ভাইরাস কেন হয়? এগুলো সবই পানিবাহিত রোগ। আমরা যদি একটু সতর্ক হই, বিশুদ্ধ পানি পান করি, রাস্তাঘাটে বা যেখানে-সেখানে অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিহার করি তাহলে তো এ ভাইরাস বা ই ভাইরাস হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
বি ভাইরাস ও সি ভাইরাস ছড়ায় রক্তের মাধ্যমে। অন্যের রক্ত নিজের শরীরে নেওয়ার আগে পরীক্ষা করে নিন, একজন রোগীকে রক্ত দেওয়ার সময় নতুন সুচ ব্যবহার করি তাহলে কিন্তু বি-ভাইরাস বা সি-ভাইরাস ছড়ানোর সুযোগ নেই।
স্বামী-স্ত্রী দু’জনের কারও যদি বি ভাইরাস বা সি ভাইরাস থাকে তাহলে তার সঙ্গে মেলামেশার ফলে অন্যেরও বি ভাইরাস বা সি-ভাইরাস হতে পারে। তাই একজনের যদি এসব ভাইরাসের কোনোটি থাকে তাহলে অন্যজনের উচিত পরীক্ষা করে টিকা নিয়ে নেওয়া। মায়ের যদি এ ভাইরাস থাকে তাহলে সন্তানকেও জন্মের মুহূর্তে অবশ্যই বি ভ্যাক্সিন ও ইমিউনোগ্লোবিওলিন ইনজেকশান দিতে হবে।
লিভারের একটি বড় রোগ হচ্ছে ফ্যাটিলিভার, যা মূলত খাদ্যাভ্যাস ও লাইফ স্টাইলের ওপর নির্ভর করে। রাতে দেরিতে খাওয়া, খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘুমাতে যাওয়া, হাঁটাচলা কম করা, ফ্যাটি ফুড, ফাস্ট ফুড বেশি খাওয়া এগুলো ফ্যাটি লিভারের বড় কারণ। কখনও কখনও অ্যালকোহলও ফ্যাটিলিভারের বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই কিছু নিয়ম মেনে চললে যেমনÑ নিয়মিত ব্যায়াম করা, রাতে ভাত কম খাওয়া, রাতে খাওয়ার পর একটু হাঁটাচলা করা, বিকালে হাঁটাহাঁটি করা, ফাস্ট ফুড, ফ্যাটি ফুড কম খাওয়াÑএসব নিয়ম মেনে চললে ফ্যাটিলিভার এড়ানো সম্ভব। অর্থাৎ,আমি বলতে চাচ্ছি লিভারের বেশিরভাগ রোগই প্রতিরোধযোগ্য।
প্রশ্ন হচ্ছে যদি লিভারের রোগ হয়ে যায় তাহলে কী করব? লিভার রোগের বড় দুশ্চিন্তা হিসেবে বিবেচনা করা হয় এইচবিএস পজিটিভকে। এইচবিএস পজিটিভ যাদের থাকে তাদের মধ্যে শতকরা ১৫ থেকে ২০ জনের লিভার ডেমেজ এবং লিভার সিরোসিস হয়। সেই ১৫ থেকে ২০ জনের মধ্যে শতকরা পাঁচজনের লিভার ক্যান্সার হতে পারে। বেশিরভাগ রোগীর কিছুই হয় না।
আবার যাদের লিভার সিরোসিস বা লিভার ডেমেজ হয়ে যায় তাদের অধিকাংশ কিন্তু টেরই পান না যে তাদের লিভার সিরোসিস হয়েছে। তারা দীর্ঘদিন স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারেন। তাই, কেউ যদি একটু নিয়ম-কানুন মেনে চলেন এবং কোনো সমস্যা দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হন তাহলে দীর্ঘদিন সুস্থ স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব।

অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল)
চেয়ারম্যান, হেপাটোলজি বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
ল্যাবএইড, ধানমন্ডি, ঢাকা।

অ্যাম্বুলেন্স হার্বাল ও আয়ুর্বেদিক হোমিওপ্যাথি রুপ চর্চা