এনাল ফিসার পায়ুপথের রোগ


ব্যথা যতই তীব্র হোক না কেন, এনাল ফিসারের চমৎকার চিকিৎসা আছে। প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু স্থানিক মলম, মল নরমের ঔষধ  ইত্যাদি ব্যবহার করলে ভালো হয়ে যায়। আর যাদের এসবে হয় না তাদের ছোট অথচ গুরুত্বপূর্ণ একটি অপারেশন করতে হয়। এ অপারেশন এত ছোট যে রোগী চাইলে দিনে দিনে বাড়ি চলে যেতে পারেন। যথাযথভাবে এ অপারেশন হলে এই রোগ আর দেখা দেয় না। আমাদের শত শত রোগী অপারেশনের পর পুরোপুরি সুস্থ আছেন। সুতরাং এ অসহনীয় রোগকে লালন না করে যথাযথ চিকিৎসা নেওয়াই যুক্তিযুক্ত

এনাল ফিসার হচ্ছে এমন একটি রোগ যার কথা সহজে কাউকে বলা যায় না, আবার সহ্যও করা যায় না, রোগী সর্বক্ষণ যন্ত্রণায় অস্থির থাকেন। হাঁটতে পারেন না, বসতে পারেন না, টয়লেট করতে পারেন না যন্ত্রণার ভয়ে। এনাল ফিসার হচ্ছে পায়ুপথের একটি রোগ।
পায়ুপথের সব রোগকেই সাধারণ মানুষ পাইলস মনে করে, কিন্তু পাইলস ছাড়াও এখানে আরও অনেক ধরনের রোগ হয়, এনাল ফিসার তাদের মধ্যে একটি। এনাল ফিসার কি? খুব সহজ ভাষায় এনাল ফিসার হচ্ছে পায়ুপথ ছিঁড়ে যাওয়া। সাধারণত প্রবল কোষ্ঠকাঠিন্য হলে, অথবা যথাযথ প্রক্রিয়ায় টয়লেট না করলে শক্ত মল অথবা অতিরিক্ত চাপের কারণে পায়ুপথ একটুখানি ছিঁড়ে যায়।

লক্ষণ
যেহেতু পায়ুপথ অত্যন্ত স্পর্শকাতর এলাকা, ছিঁড়ে যাওয়ার পর মলত্যাগ করলেই তীব্র ব্যথা শুরু হয়। সে ব্যথা কারও আধা ঘণ্টা, কারও সারাদিন স্থায়ী হয়। ব্যথা পিন দিয়ে খোঁচা দেওয়ার মতো, ছুরি দিয়ে কাটার মতো হতে পারে।
সে ব্যথা সারা তলপেটে ও পায়ে ছড়িয়ে যেতে পারে। সঙ্গে চুলকানি ও একধরনের অস্বস্তি হতে পারে। রোগী ব্যথার ভয়ে টয়লেটে যেতে চান না, ফলে কোষ্ঠ আরও কঠিন হয়ে পড়ে এবং পরবর্তী মলত্যাগে ব্যথা আরও
বাড়ে। বিষয়টি দুষ্টচক্রের মতো চলতে থকে। ব্যথা ছাড়া অন্য আর একটি উপসর্গ হচ্ছে রক্ত যাওয়া, তবে এনাল ফিসারে রক্ত বেশি যায় না, সাধারণত মলের গায়ে লেগে কিংবা টিস্যু পেপারে দেখা যায়, দু-এক ফোটা রক্ত কমোডেও দেখা যেতে পারে। রক্ত, ব্যথা ছাড়া পায়ুপথে সামান্য ফোলা বা গেজ, টয়লেট আসতে দেরি হওয়া ইত্যাদি হতে পারে।

চিকিৎসা
ব্যথা যতই তীব্র হোক না কেন, এনাল ফিসারের চমৎকার চিকিৎসা আছে। প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু স্থানিক মলম, মল নরমের ঔষধ  ইত্যাদি ব্যবহার করলে ভালো হয়ে যায়। আর যাদের এসবে হয় না তাদের ছোট অথচ গুরুত্বপূর্ণ একটি অপারেশন করতে হয়। এ অপারেশন এত ছোট যে রোগী চাইলে দিনে দিনে বাড়ি চলে যেতে পারেন। যথাযথভাবে এ অপারেশন হলে এই রোগ আর দেখা দেয় না। আমাদের শত শত রোগী অপারেশনের পর পুরোপুরি সুস্থ আছেন। সুতরাং এ অসহনীয় রোগকে লালন না করে যথাযথ চিকিৎসা নেওয়াই যুক্তিযুক্ত।

অধ্যাপক ডা. এসএমএ এরফান
জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হসপিটাল
সাতমসজিদ রোড, জিগাতলা বাসস্ট্যান্ড, ধানমন্ডি, ঢাকা

অ্যাম্বুলেন্স হার্বাল ও আয়ুর্বেদিক হোমিওপ্যাথি রুপ চর্চা