প্যারাসিটামল সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানুন


আমাদের দেশে প্যারাসিটামল বেশ পরিচিত ও বহুল ব্যবহৃত একটি ওষুধ। ব্যথা ও জ্বর নিরাময়ে প্যারাসিটামল নিরাপদ একটি ওষুধ, তাই আমরা এ ওষুধটি খুব বেশি খেয়ে থাকি। তবে অকারণে বা অল্প সমস্যাতেই প্যারাসিটামল খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ যেকোনো ওষুধের অনিয়ন্ত্রিত ডোজ আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকারক। আসুন জেনে নিই প্যারাসিটামল সম্পর্কে কিছু জরুরি তথ্য -

 ব্যবহারিক বিচারে বেদনানাশক ওষুধ সাধারণভাবে দুই ভাগে বিভক্ত। একটি নারকোটিক বেদনানাশক ওষুধ, যেমন- মরফিন, প্যাথিড্রিন ইত্যাদি। এগুলো মাদকজাতীয় ও আসক্তি তৈরি করে। এ জাতীয় ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গ্রহণ সম্পূর্ণভাবে নিষেধ। আরেকটি  মাদকবিহীন বেদনানাশক ওষুধ, এ গ্রুপে অনেক ওষুধের সঙ্গে প্যারাসিটামল ও অ্যাসপিরিনও রয়েছে।

শরীরের সাধারণ ব্যথা বা সোমাটিক পেইনে অন্য ওষুধের চেয়ে আমরা প্যারাসিটামলই ব্যবহার করে থাকি। মাথাব্যথা, গলাব্যথা, পেশির ব্যথা, দাঁতের ব্যথা, ঋতুকষ্ট ইত্যাদিতে প্যারাসিটামল খুবই কার্যকর।

জ্বরের চিকিৎসায় প্যারাসিটামল একটি পরিচিত ওষুধ। প্যারাসিটামল ওভার কাউন্টার বা ওটিসি হিসেবে পরিচিত বলে এটি চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া যে কেউ কিনতে পারে।

প্যারাসিটামল গ্রহণের ক্ষেত্রে এর ডোজ সম্পর্কে অবশ্যই আমাদের জানতে হবে। প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ৫০০ মিলিগ্রামের ট্যাবলেট একটি, কখনও প্রয়োজনে দুইটি একসঙ্গে খাওয়া যায়। ২৪ ঘণ্টায় সাধারণত তিন থেকে চারটি ওষুধ খাওয়া যাবে। অবশ্যই মনে রাখতে হবে, ২৪ ঘণ্টায় ৪০০০ মিলিগ্রামের বেশি প্যারাসিটামল খাওয়া যাবে না।

শিশুদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওজন অনুযায়ী প্যারাসিটামল সিরাপের ডোজ দিতে হবে। শিশুদের ক্ষেত্রে চার গ্রাম হচ্ছে সর্বোচ্চ মাত্রা।

ব্যথা বা জ্বরের জন্য তিন দিন পর্যন্ত প্যারাসিটামল খেতে পারেন। এতে উপকার না হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে অন্য ওষুধ খেতে হবে।

প্যারাসিটামল ওষুধের তেমন কোনো বড় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তবে কারও কারও রক্তের প্রয়োজনীয় উপাদানগুলোর অভাবে চামড়ায় সমস্যা হতে পারে।

মনে রাখতে হবে নির্দিষ্ট ডোজের চেয়ে বেশি প্যারাসিটামল গ্রহণ করা ঠিক নয়। কারণ বেশি মাত্রায় প্যারাসিটামল গ্রহণ করলে কিডনি ও লিভারের ক্ষতির ঝুঁকি বেড়ে যায়।

অনেকেই ২৪ ঘণ্টায় ১০ থেকে ১২টি ৫০০ মিলিগ্রামের প্যারাসিটামল খেয়ে থাকেন। গুরুতর ক্ষেত্রে দিনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সর্বোচ্চ আটটি প্যারাসিটামল খাওয়া যাবে।

যাদের কিডনি ও লিভারের সমস্যা আছে তাদের প্যারাসিটামল কম খাওয়াই ভালো।  

পরিশেষে প্যারাসিটামল ওষুধ সেবন করতে ও এর সঠিক মাত্রা নির্ধারণ করতে আমাদের অবশ্যই আরও সচেতন হতে হবে।

 
ডা. মহসীন কবির

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, লেখক ও গবেষক

ইনচার্জ, ইনস্টিটিউট অব জেরিয়েট্রিক মেডিসিন

বাংলাদেশ প্রবীণহিতৈষী সংঘ, ঢাকা

অ্যাম্বুলেন্স হার্বাল ও আয়ুর্বেদিক হোমিওপ্যাথি রুপ চর্চা