আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা হোক সেবামূলক


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে উপমহাদেশের প্রখ্যাত চিকিৎসক দেবী শেঠি বাংলাদেশি চিকিৎসকদের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে আমাদের দেশের চিকিৎসকরা ভালো চিকিৎসা দিয়েছেন। আর তার পরামর্শেই ওবায়দুল কাদেরকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। প্রথমেই বলতে হয় দেবী শেঠির কথা। তিনি সেবার মনোভাব নিয়েই চিকিৎসা করেন। যার কারণে ভারতের পদ্মভূষণ পদক লাভ করেছেন। তিনি শ্রেষ্ঠ চিকিৎসক হিসেবে তো বটেই, স্বল্প খরচে উন্নত চিকিৎসা প্রদানস্বরূপ এ পদক পেয়েছেন। কার্ডিয়াক সার্জন ডা. দেবী প্রসাদ শেঠি নারায়ণ হেলথের চেয়ারম্যান ও উদ্যোক্তা। দেবী শেঠি ভারতের কর্নাটক রাজ্যের দক্ষিণ কনাডা জেলার কিন্নিগলি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ৯ ভাইবোনের মধ্যে অষ্টম শেঠি মেডিকেলে পঞ্চম গ্রেডে পড়ার সময় তৎকালীন দক্ষিণ আফ্রিকার সার্জন কর্তৃক বিশ্বের প্রথম হৃৎপি- প্রতিস্থাপনের কথা শুনে কার্ডিয়াক সার্জন হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৯১ সালে ৯ দিন বয়সি শিশু রনির হৃৎপি- অপারেশন করেন, যা ভারতের প্রথম সফল শিশু হৃৎপি- অস্ত্রোপচার। তিনি কলকাতায় মাদার তেরেসার ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর কিছুকাল পর তিনি ব্যাঙ্গালুরুতে চলে যান এবং মনিপাল হার্ট ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ১৫ হাজারের বেশি কার্ডিয়াক সার্জারি করেছেন। এই তো গেল দেবী শেঠির কথা। একজন চিকিৎসকের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি সেবার মনোভাবটাকে প্রাধান্য দিতে হবে। তবেই তিনি প্রকৃত চিকিৎসক। ‘চিকিৎসক মানেই সেবক’ এটা মনে রাখতে হবে। চিকিৎসক যখন অর্থলোভী হন, তখনই যত বিপত্তি ঘটে। দুর্নাম হয় গোটা চিকিৎসক সমাজের।

বাংলাদেশে অভিজ্ঞ, দক্ষ আর সেবার মনোভাব নিয়ে চিকিৎসা করেন, এমন অনেকেই আছেন। তারা চিকিৎসাকে ব্যবসা নয়, সেবা মনে করেন। প্রিয় পাঠকের জ্ঞাতার্থে আমি আমার নিজের একটা ঘটনার কথা উল্লেখ করতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া আমার বড় মেয়ের (সুরাইয়া সিদ্দিকী বৃষ্টি) ব্রেন টিউমার ধরা পড়ে এবং অবস্থা জঠিল আকার ধারণ করে। একজন নিউরোমেডেসিনের অধ্যাপক দুজন নিউরো সার্জনের কাছে রেফার করলেন। প্রথমজনের কাছে গেলে তিনি বললেন, ‘যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অপারেশন করতে হবে, তা না হলে সর্বনাশ হয়ে যাবে’ (তিনি একজন সাবেক মন্ত্রীর ভাই)। তিনি ১২ লাখ টাকা দাবি করলেন। তারপর গেলাম অপরজনের কাছে। তিনি হলেন অধ্যাপক ডা. রাজিউল হক (শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে বসেন)। তিনি বললেন, তাড়াতাড়ি অপারেশন করা দরকার। খুবই ভালো ব্যবহার করলেন। আর টাকা চাইলেন সব মিলিয়ে চার লাখ। আমার মেয়ে উনাকে বলল, আমার বাবা একজন গরিব মানুষ। উত্তরে তিনি বললেন, ‘ভর্তি হও দেখা যাবে।’ ২০১৮ সালের ১০ ডিসেম্বর মেয়েকে ভর্তি করলাম। ১১ ডিসেম্বর অপারেশন হলো। সফল অপারেশন। দৈনিক সাড়ে ৫ হাজার টাকা কেবিন ভাড়া, উন্নতমানের সেবা (খাবারসহ) প্রয়োজনীয় ওষুধ হাসপাতাল থেকেই দেওয়া হলো। ১৪ ডিসেম্বর রিলিজ দেওয়া হলো আর সব মিলিয়ে তিনি টাকা নিলেন ১ লাখ ৬৬ হাজার। অথচ আমার পরিচিত সবাই বললেন, বাংলাদেশে এ অপারেশন সম্ভব নয়, সবাই বললেন ভারতে নিয়ে যেতে। অন্যদিকে আমি যে বাসায় থাকি তারই পাশে এক ধনী ব্যক্তি (বাবু মিয়া) তার ছেলেকে ব্রেন টিউমার অপারেশন করান ভারতের চেন্নাইয়ে। কিন্তু সফল হয়নি। তিন মাস আগে সে মারা গেছে। যাক সে কথা। আমাদের দেশে অনেক ভালো চিকিৎসক আছেন। তবে কিছু কিছু অনভিজ্ঞ ও অর্থলোভীর কারণে গোটা চিকিৎসক সমাজের বদনাম। একই কারণে আমার দেশের লোকজন চিকিৎসার জন্য প্রতিবেশী ভারতে বা অন্য দেশে ছুটছেন। যাদের প্রচুর টাকা আছে তারা স্বাভাবিক কারণেই বিদেশ যান বা যাবেন। কিন্তু মধ্যবিত্ত বা নিম্ন মধ্যবিত্তরাও জায়গাজমি বিক্রি করে বিদেশে, বিশেষ করে ভারতে ছুটছেন। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার বাংলাদেশি চিকিৎসার জন্য ছুটে যাচ্ছেন প্রতিবেশী ভারতে। বেশিরভাগ মানুষ যাচ্ছেন ভারতের চেন্নাই, ভেলোর, ব্যাঙ্গালুরু ও কলকাতায়। এছাড়াও দিল্লি ও হায়দরাবাদেও যাচ্ছেন অনেকেই। সহনীয় খরচে উন্নত চিকিৎসার আশায় বাংলাদেশিদের মধ্যে ভারতনির্ভরতা বেড়েই চলেছে। জটিল ও কঠিন রোগ ছাড়াও সামান্য রোগের জন্যই ভারতে ছুটে যাচ্ছেন বাংলাদেশিরা। একটি পত্রিকার খবর ‘চট্টগ্রামের ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত বছর (২০১৮ সাল) চট্টগ্রাম থেকে ভারতীয় ভিসা নিয়েছেন এক লাখ ৯০ হাজার মানুষ। এর মধ্যে চিকিৎসা ভিসা নিয়েছেন ৭০ হাজারেরও বেশি। ২০১৭ সালে চট্টগ্রাম থেকে এক লাখ ৩৫ হাজার ৩০০ মানুষ ভারতীয় ভিসা নিয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা ভিসা নিয়েছেন ৫৫ হাজার রোগী। প্রতি বছর মেডিকেল ভিসার সংখ্যা বেড়েই চলেছে।’ ভারতে যাওয়ার একটা বড় কারণ হচ্ছে, বিশ্বাস, ব্যবহার, আচরণ আর রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিয়ে অনেকটা সন্তুষ্টি। বিশেষ করে ডায়াগনস্টিক বিষয়ের প্রতি আস্থা বেশি রয়েছে। অনেকের অভিমত, চিকিৎসার নামে হয়রানির শিকার হতে হয়নি। একটি ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা একাধিকবার করানো হয় না। চিকিৎসকরা রোগীকে যথেষ্ট সময় দেন। রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে রোগের বিষয়ে খোলামেলা এবং দীর্ঘ সময় নিয়ে কথা বলেন। চিকিৎসা সংক্রান্ত খরচ বাংলাদেশের তুলনায় অনেকটা কম। এছাড়াও হাসপাতালগুলোতে ভর্তিকৃত রোগীদের সঙ্গে চিকিৎসক ও নার্সরা সুন্দর আচরণ করেন। এতেই রোগীরা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এসব কারণে চিকিৎসাব্যবস্থায় বাংলাদেশিদের কাছে ভারতনির্ভরতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ভারত সরকার ও সেখানকার হাসপাতালগুলো বাংলাদেশিদের জন্য নানা পরিষেবা চালু করেছে।

আরেকটা কথা উল্লেখ করতে হয়, আমাদের দেশে এখন চিকিৎসার নামে চলছে প্রতারণা। আর্তমানবতার সেবার বদলে যেভাবেই হোক অর্থ আদায় এ পেশার সুনামকে জিম্মি করে ফেলা হয়েছে। প্রতারণার ক্ষেত্রে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা তথাকথিত হাসপাতাল বা ক্লিনিক শুধু নয়, অভিজাত হাসপাতালগুলোও পিছিয়ে নেই। নিরাপদে সন্তান প্রসবের জন্য কেউ হাসপাতাল বা ক্লিনিকে ভর্তি হলেই তাকে পাঠানো হচ্ছে সিজারিয়ানের জন্য। স্বাভাবিক সন্তান প্রসবের বদলে রোগী ও প্রসূতির জীবন নিয়ে শঙ্কার ভয় ঢুকিয়ে অস্ত্রোপচারের আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। অতি সম্প্রতি চোখের ছানি অপারেশনের নামে ২০ রোগীর চোখ নষ্ট করে ফেলেছে চুয়াডাঙ্গার একটি চক্ষু হাসপাতাল। সরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর কার্যক্রমেও রয়েছে অস্বস্তিকর অবস্থা। সরকারের কর্তাব্যক্তিরা চিকিৎসা খাতের অনিয়ম-অবহেলার বিরুদ্ধে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেই খালাস। ফলে কাটছে না বেহাল অবস্থা। দেশে প্রতি বছরই সরকারি খরচে তৈরি হচ্ছে একের পর এক ক্লিনিক ও হাসপাতাল। যন্ত্রপাতি, ওষুধপথ্যের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে সরকারি তহবিল থেকে। এসব চিকিৎসালয়ে চিকিৎসক, নার্স, আয়াসহ কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকলেও থাকে না কাক্সিক্ষত চিকিৎসাসেবা। রাজধানী থেকে নিভৃত পল্লী পর্যন্ত বিরাজ করছে অভিন্ন অবস্থা। চিকিৎসকের বদলে নার্স, ওয়ার্ডবয়, আয়ারা রোগী দেখা থেকে শুরু করে অস্ত্রোপচার পর্যন্ত করছে অবলীলায়। যে কারণে মাঝেমধ্যেই রোগীর পেটের ভেতর গজ-ব্যান্ডেজ, ছুরি-চাকু রেখে সেলাই করে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে চালু রয়েছে দালালদের রাজত্ব। তারা নানা কায়দা-কৌশলে অসহায় রোগীদের কাছ থেকে অবৈধ উপায়ে হাতিয়ে নিচ্ছে অর্থ। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা চিকিৎসকদের সেবার মনোভাব নিয়ে রোগীদের চিকিৎসা করার জন্য বারবার আহ্বান জানাচ্ছেন। কিছুদিন আগে রাষ্ট্রপতি এম আবদুল হামিদ এক অনুষ্ঠানে বিনা প্রয়োজনে মেডিকেল টেস্ট করার জন্য রোগীদের ব্যবস্থাপত্র না দিতে চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অনেক রোগীর চিকিৎসা ব্যয় বহন করার সামর্থ্য নেই। চিকিৎসার নামে অনেক রোগী হয়রানির শিকার হয়ে থাকেন। এক শ্রেণির চিকিৎসক বিনা প্রয়োজনে রোগীদের মেডিকেল টেস্ট করাতে দেন। আসলে আমাদের দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা সেবামূলক না হয়ে ব্যবসায়িক হয়ে যাওয়ায় রোগীদের ছুটে বেড়াতে হচ্ছে। গরিব আর অসহায়দের চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণও করতে হচ্ছে। চিকিৎসার নামে ব্যবসা আর অপচিকিৎসা বন্ধ না হলে জনদুর্ভোগ বেড়েই চলবে। হ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে উপমহাদেশের প্রখ্যাত চিকিৎসক দেবী শেঠি বাংলাদেশি চিকিৎসকদের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে আমাদের দেশের চিকিৎসকরা ভালো চিকিৎসা দিয়েছেন। আর তার পরামর্শেই ওবায়দুল কাদেরকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। প্রথমেই বলতে হয় দেবী শেঠির কথা। তিনি সেবার মনোভাব নিয়েই চিকিৎসা করেন। যার কারণে ভারতের পদ্মভূষণ পদক লাভ করেছেন। তিনি শ্রেষ্ঠ চিকিৎসক হিসেবে তো বটেই, স্বল্প খরচে উন্নত চিকিৎসা প্রদানস্বরূপ এ পদক পেয়েছেন। কার্ডিয়াক সার্জন ডা. দেবী প্রসাদ শেঠি নারায়ণ হেলথের চেয়ারম্যান ও উদ্যোক্তা। দেবী শেঠি ভারতের কর্নাটক রাজ্যের দক্ষিণ কনাডা জেলার কিন্নিগলি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ৯ ভাইবোনের মধ্যে অষ্টম শেঠি মেডিকেলে পঞ্চম গ্রেডে পড়ার সময় তৎকালীন দক্ষিণ আফ্রিকার সার্জন কর্তৃক বিশ্বের প্রথম হৃৎপি- প্রতিস্থাপনের কথা শুনে কার্ডিয়াক সার্জন হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৯১ সালে ৯ দিন বয়সি শিশু রনির হৃৎপি- অপারেশন করেন, যা ভারতের প্রথম সফল শিশু হৃৎপি- অস্ত্রোপচার। তিনি কলকাতায় মাদার তেরেসার ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর কিছুকাল পর তিনি ব্যাঙ্গালুরুতে চলে যান এবং মনিপাল হার্ট ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ১৫ হাজারের বেশি কার্ডিয়াক সার্জারি করেছেন। এই তো গেল দেবী শেঠির কথা। একজন চিকিৎসকের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি সেবার মনোভাবটাকে প্রাধান্য দিতে হবে। তবেই তিনি প্রকৃত চিকিৎসক। ‘চিকিৎসক মানেই সেবক’ এটা মনে রাখতে হবে। চিকিৎসক যখন অর্থলোভী হন, তখনই যত বিপত্তি ঘটে। দুর্নাম হয় গোটা চিকিৎসক সমাজের। বাংলাদেশে অভিজ্ঞ, দক্ষ আর সেবার মনোভাব নিয়ে চিকিৎসা করেন, এমন অনেকেই আছেন। তারা চিকিৎসাকে ব্যবসা নয়, সেবা মনে করেন। প্রিয় পাঠকের জ্ঞাতার্থে আমি আমার নিজের একটা ঘটনার কথা উল্লেখ করতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া আমার বড় মেয়ের (সুরাইয়া সিদ্দিকী বৃষ্টি) ব্রেন টিউমার ধরা পড়ে এবং অবস্থা জঠিল আকার ধারণ করে। একজন নিউরোমেডেসিনের অধ্যাপক দুজন নিউরো সার্জনের কাছে রেফার করলেন। প্রথমজনের কাছে গেলে তিনি বললেন, ‘যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অপারেশন করতে হবে, তা না হলে সর্বনাশ হয়ে যাবে’ (তিনি একজন সাবেক মন্ত্রীর ভাই)। তিনি ১২ লাখ টাকা দাবি করলেন। তারপর গেলাম অপরজনের কাছে। তিনি হলেন অধ্যাপক ডা. রাজিউল হক (শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে বসেন)। তিনি বললেন, তাড়াতাড়ি অপারেশন করা দরকার। খুবই ভালো ব্যবহার করলেন। আর টাকা চাইলেন সব মিলিয়ে চার লাখ। আমার মেয়ে উনাকে বলল, আমার বাবা একজন গরিব মানুষ। উত্তরে তিনি বললেন, ‘ভর্তি হও দেখা যাবে।’ ২০১৮ সালের ১০ ডিসেম্বর মেয়েকে ভর্তি করলাম। ১১ ডিসেম্বর অপারেশন হলো। সফল অপারেশন। দৈনিক সাড়ে ৫ হাজার টাকা কেবিন ভাড়া, উন্নতমানের সেবা (খাবারসহ) প্রয়োজনীয় ওষুধ হাসপাতাল থেকেই দেওয়া হলো। ১৪ ডিসেম্বর রিলিজ দেওয়া হলো আর সব মিলিয়ে তিনি টাকা নিলেন ১ লাখ ৬৬ হাজার। অথচ আমার পরিচিত সবাই বললেন, বাংলাদেশে এ অপারেশন সম্ভব নয়, সবাই বললেন ভারতে নিয়ে যেতে। অন্যদিকে আমি যে বাসায় থাকি তারই পাশে এক ধনী ব্যক্তি (বাবু মিয়া) তার ছেলেকে ব্রেন টিউমার অপারেশন করান ভারতের চেন্নাইয়ে। কিন্তু সফল হয়নি। তিন মাস আগে সে মারা গেছে। যাক সে কথা। আমাদের দেশে অনেক ভালো চিকিৎসক আছেন। তবে কিছু কিছু অনভিজ্ঞ ও অর্থলোভীর কারণে গোটা চিকিৎসক সমাজের বদনাম। একই কারণে আমার দেশের লোকজন চিকিৎসার জন্য প্রতিবেশী ভারতে বা অন্য দেশে ছুটছেন। যাদের প্রচুর টাকা আছে তারা স্বাভাবিক কারণেই বিদেশ যান বা যাবেন। কিন্তু মধ্যবিত্ত বা নিম্ন মধ্যবিত্তরাও জায়গাজমি বিক্রি করে বিদেশে, বিশেষ করে ভারতে ছুটছেন। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার বাংলাদেশি চিকিৎসার জন্য ছুটে যাচ্ছেন প্রতিবেশী ভারতে। বেশিরভাগ মানুষ যাচ্ছেন ভারতের চেন্নাই, ভেলোর, ব্যাঙ্গালুরু ও কলকাতায়। এছাড়াও দিল্লি ও হায়দরাবাদেও যাচ্ছেন অনেকেই। সহনীয় খরচে উন্নত চিকিৎসার আশায় বাংলাদেশিদের মধ্যে ভারতনির্ভরতা বেড়েই চলেছে। জটিল ও কঠিন রোগ ছাড়াও সামান্য রোগের জন্যই ভারতে ছুটে যাচ্ছেন বাংলাদেশিরা। একটি পত্রিকার খবরÑ ‘চট্টগ্রামের ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত বছর (২০১৮ সাল) চট্টগ্রাম থেকে ভারতীয় ভিসা নিয়েছেন এক লাখ ৯০ হাজার মানুষ। এর মধ্যে চিকিৎসা ভিসা নিয়েছেন ৭০ হাজারেরও বেশি। ২০১৭ সালে চট্টগ্রাম থেকে এক লাখ ৩৫ হাজার ৩০০ মানুষ ভারতীয় ভিসা নিয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা ভিসা নিয়েছেন ৫৫ হাজার রোগী। প্রতি বছর মেডিকেল ভিসার সংখ্যা বেড়েই চলেছে।’ ভারতে যাওয়ার একটা বড় কারণ হচ্ছে, বিশ্বাস, ব্যবহার, আচরণ আর রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিয়ে অনেকটা সন্তুষ্টি। বিশেষ করে ডায়াগনস্টিক বিষয়ের প্রতি আস্থা বেশি রয়েছে। অনেকের অভিমত, চিকিৎসার নামে হয়রানির শিকার হতে হয়নি। একটি ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা একাধিকবার করানো হয় না। চিকিৎসকরা রোগীকে যথেষ্ট সময় দেন। রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে রোগের বিষয়ে খোলামেলা এবং দীর্ঘ সময় নিয়ে কথা বলেন। চিকিৎসা সংক্রান্ত খরচ বাংলাদেশের তুলনায় অনেকটা কম। এছাড়াও হাসপাতালগুলোতে ভর্তিকৃত রোগীদের সঙ্গে চিকিৎসক ও নার্সরা সুন্দর আচরণ করেন। এতেই রোগীরা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এসব কারণে চিকিৎসাব্যবস্থায় বাংলাদেশিদের কাছে ভারতনির্ভরতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ভারত সরকার ও সেখানকার হাসপাতালগুলো বাংলাদেশিদের জন্য নানা পরিষেবা চালু করেছে। আরেকটা কথা উল্লেখ করতে হয়, আমাদের দেশে এখন চিকিৎসার নামে চলছে প্রতারণা। আর্তমানবতার সেবার বদলে যেভাবেই হোক অর্থ আদায়Ñ এ পেশার সুনামকে জিম্মি করে ফেলা হয়েছে। প্রতারণার ক্ষেত্রে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা তথাকথিত হাসপাতাল বা ক্লিনিক শুধু নয়, অভিজাত হাসপাতালগুলোও পিছিয়ে নেই। নিরাপদে সন্তান প্রসবের জন্য কেউ হাসপাতাল বা ক্লিনিকে ভর্তি হলেই তাকে পাঠানো হচ্ছে সিজারিয়ানের জন্য। স্বাভাবিক সন্তান প্রসবের বদলে রোগী ও প্রসূতির জীবন নিয়ে শঙ্কার ভয় ঢুকিয়ে অস্ত্রোপচারের আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। অতি সম্প্রতি চোখের ছানি অপারেশনের নামে ২০ রোগীর চোখ নষ্ট করে ফেলেছে চুয়াডাঙ্গার একটি চক্ষু হাসপাতাল। সরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর কার্যক্রমেও রয়েছে অস্বস্তিকর অবস্থা। সরকারের কর্তাব্যক্তিরা চিকিৎসা খাতের অনিয়ম-অবহেলার বিরুদ্ধে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেই খালাস। ফলে কাটছে না বেহাল অবস্থা। দেশে প্রতি বছরই সরকারি খরচে তৈরি হচ্ছে একের পর এক ক্লিনিক ও হাসপাতাল। যন্ত্রপাতি, ওষুধপথ্যের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে সরকারি তহবিল থেকে। এসব চিকিৎসালয়ে চিকিৎসক, নার্স, আয়াসহ কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকলেও থাকে না কাক্সিক্ষত চিকিৎসাসেবা। রাজধানী থেকে নিভৃত পল্লী পর্যন্ত বিরাজ করছে অভিন্ন অবস্থা। চিকিৎসকের বদলে নার্স, ওয়ার্ডবয়, আয়ারা রোগী দেখা থেকে শুরু করে অস্ত্রোপচার পর্যন্ত করছে অবলীলায়। যে কারণে মাঝেমধ্যেই রোগীর পেটের ভেতর গজ-ব্যান্ডেজ, ছুরি-চাকু রেখে সেলাই করে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে চালু রয়েছে দালালদের রাজত্ব। তারা নানা কায়দা-কৌশলে অসহায় রোগীদের কাছ থেকে অবৈধ উপায়ে হাতিয়ে নিচ্ছে অর্থ। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা চিকিৎসকদের সেবার মনোভাব নিয়ে রোগীদের চিকিৎসা করার জন্য বারবার আহ্বান জানাচ্ছেন। কিছুদিন আগে রাষ্ট্রপতি এম আবদুল হামিদ এক অনুষ্ঠানে বিনা প্রয়োজনে মেডিকেল টেস্ট করার জন্য রোগীদের ব্যবস্থাপত্র না দিতে চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অনেক রোগীর চিকিৎসা ব্যয় বহন করার সামর্থ্য নেই। চিকিৎসার নামে অনেক রোগী হয়রানির শিকার হয়ে থাকেন। এক শ্রেণির চিকিৎসক বিনা প্রয়োজনে রোগীদের মেডিকেল টেস্ট করাতে দেন। আসলে আমাদের দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা সেবামূলক না হয়ে ব্যবসায়িক হয়ে যাওয়ায় রোগীদের ছুটে বেড়াতে হচ্ছে। গরিব আর অসহায়দের চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণও করতে হচ্ছে। চিকিৎসার নামে ব্যবসা আর অপচিকিৎসা বন্ধ না হলে জনদুর্ভোগ বেড়েই চলবে।

লেখক: এবি সিদ্দিক , সাংবাদিক

 

অ্যাম্বুলেন্স হার্বাল ও আয়ুর্বেদিক হোমিওপ্যাথি রুপ চর্চা
আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা হোক সেবামূলক :: Healthbd24

আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা হোক সেবামূলক


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে উপমহাদেশের প্রখ্যাত চিকিৎসক দেবী শেঠি বাংলাদেশি চিকিৎসকদের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে আমাদের দেশের চিকিৎসকরা ভালো চিকিৎসা দিয়েছেন। আর তার পরামর্শেই ওবায়দুল কাদেরকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। প্রথমেই বলতে হয় দেবী শেঠির কথা। তিনি সেবার মনোভাব নিয়েই চিকিৎসা করেন। যার কারণে ভারতের পদ্মভূষণ পদক লাভ করেছেন। তিনি শ্রেষ্ঠ চিকিৎসক হিসেবে তো বটেই, স্বল্প খরচে উন্নত চিকিৎসা প্রদানস্বরূপ এ পদক পেয়েছেন। কার্ডিয়াক সার্জন ডা. দেবী প্রসাদ শেঠি নারায়ণ হেলথের চেয়ারম্যান ও উদ্যোক্তা। দেবী শেঠি ভারতের কর্নাটক রাজ্যের দক্ষিণ কনাডা জেলার কিন্নিগলি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ৯ ভাইবোনের মধ্যে অষ্টম শেঠি মেডিকেলে পঞ্চম গ্রেডে পড়ার সময় তৎকালীন দক্ষিণ আফ্রিকার সার্জন কর্তৃক বিশ্বের প্রথম হৃৎপি- প্রতিস্থাপনের কথা শুনে কার্ডিয়াক সার্জন হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৯১ সালে ৯ দিন বয়সি শিশু রনির হৃৎপি- অপারেশন করেন, যা ভারতের প্রথম সফল শিশু হৃৎপি- অস্ত্রোপচার। তিনি কলকাতায় মাদার তেরেসার ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর কিছুকাল পর তিনি ব্যাঙ্গালুরুতে চলে যান এবং মনিপাল হার্ট ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ১৫ হাজারের বেশি কার্ডিয়াক সার্জারি করেছেন। এই তো গেল দেবী শেঠির কথা। একজন চিকিৎসকের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি সেবার মনোভাবটাকে প্রাধান্য দিতে হবে। তবেই তিনি প্রকৃত চিকিৎসক। ‘চিকিৎসক মানেই সেবক’ এটা মনে রাখতে হবে। চিকিৎসক যখন অর্থলোভী হন, তখনই যত বিপত্তি ঘটে। দুর্নাম হয় গোটা চিকিৎসক সমাজের।

বাংলাদেশে অভিজ্ঞ, দক্ষ আর সেবার মনোভাব নিয়ে চিকিৎসা করেন, এমন অনেকেই আছেন। তারা চিকিৎসাকে ব্যবসা নয়, সেবা মনে করেন। প্রিয় পাঠকের জ্ঞাতার্থে আমি আমার নিজের একটা ঘটনার কথা উল্লেখ করতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া আমার বড় মেয়ের (সুরাইয়া সিদ্দিকী বৃষ্টি) ব্রেন টিউমার ধরা পড়ে এবং অবস্থা জঠিল আকার ধারণ করে। একজন নিউরোমেডেসিনের অধ্যাপক দুজন নিউরো সার্জনের কাছে রেফার করলেন। প্রথমজনের কাছে গেলে তিনি বললেন, ‘যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অপারেশন করতে হবে, তা না হলে সর্বনাশ হয়ে যাবে’ (তিনি একজন সাবেক মন্ত্রীর ভাই)। তিনি ১২ লাখ টাকা দাবি করলেন। তারপর গেলাম অপরজনের কাছে। তিনি হলেন অধ্যাপক ডা. রাজিউল হক (শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে বসেন)। তিনি বললেন, তাড়াতাড়ি অপারেশন করা দরকার। খুবই ভালো ব্যবহার করলেন। আর টাকা চাইলেন সব মিলিয়ে চার লাখ। আমার মেয়ে উনাকে বলল, আমার বাবা একজন গরিব মানুষ। উত্তরে তিনি বললেন, ‘ভর্তি হও দেখা যাবে।’ ২০১৮ সালের ১০ ডিসেম্বর মেয়েকে ভর্তি করলাম। ১১ ডিসেম্বর অপারেশন হলো। সফল অপারেশন। দৈনিক সাড়ে ৫ হাজার টাকা কেবিন ভাড়া, উন্নতমানের সেবা (খাবারসহ) প্রয়োজনীয় ওষুধ হাসপাতাল থেকেই দেওয়া হলো। ১৪ ডিসেম্বর রিলিজ দেওয়া হলো আর সব মিলিয়ে তিনি টাকা নিলেন ১ লাখ ৬৬ হাজার। অথচ আমার পরিচিত সবাই বললেন, বাংলাদেশে এ অপারেশন সম্ভব নয়, সবাই বললেন ভারতে নিয়ে যেতে। অন্যদিকে আমি যে বাসায় থাকি তারই পাশে এক ধনী ব্যক্তি (বাবু মিয়া) তার ছেলেকে ব্রেন টিউমার অপারেশন করান ভারতের চেন্নাইয়ে। কিন্তু সফল হয়নি। তিন মাস আগে সে মারা গেছে। যাক সে কথা। আমাদের দেশে অনেক ভালো চিকিৎসক আছেন। তবে কিছু কিছু অনভিজ্ঞ ও অর্থলোভীর কারণে গোটা চিকিৎসক সমাজের বদনাম। একই কারণে আমার দেশের লোকজন চিকিৎসার জন্য প্রতিবেশী ভারতে বা অন্য দেশে ছুটছেন। যাদের প্রচুর টাকা আছে তারা স্বাভাবিক কারণেই বিদেশ যান বা যাবেন। কিন্তু মধ্যবিত্ত বা নিম্ন মধ্যবিত্তরাও জায়গাজমি বিক্রি করে বিদেশে, বিশেষ করে ভারতে ছুটছেন। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার বাংলাদেশি চিকিৎসার জন্য ছুটে যাচ্ছেন প্রতিবেশী ভারতে। বেশিরভাগ মানুষ যাচ্ছেন ভারতের চেন্নাই, ভেলোর, ব্যাঙ্গালুরু ও কলকাতায়। এছাড়াও দিল্লি ও হায়দরাবাদেও যাচ্ছেন অনেকেই। সহনীয় খরচে উন্নত চিকিৎসার আশায় বাংলাদেশিদের মধ্যে ভারতনির্ভরতা বেড়েই চলেছে। জটিল ও কঠিন রোগ ছাড়াও সামান্য রোগের জন্যই ভারতে ছুটে যাচ্ছেন বাংলাদেশিরা। একটি পত্রিকার খবর ‘চট্টগ্রামের ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত বছর (২০১৮ সাল) চট্টগ্রাম থেকে ভারতীয় ভিসা নিয়েছেন এক লাখ ৯০ হাজার মানুষ। এর মধ্যে চিকিৎসা ভিসা নিয়েছেন ৭০ হাজারেরও বেশি। ২০১৭ সালে চট্টগ্রাম থেকে এক লাখ ৩৫ হাজার ৩০০ মানুষ ভারতীয় ভিসা নিয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা ভিসা নিয়েছেন ৫৫ হাজার রোগী। প্রতি বছর মেডিকেল ভিসার সংখ্যা বেড়েই চলেছে।’ ভারতে যাওয়ার একটা বড় কারণ হচ্ছে, বিশ্বাস, ব্যবহার, আচরণ আর রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিয়ে অনেকটা সন্তুষ্টি। বিশেষ করে ডায়াগনস্টিক বিষয়ের প্রতি আস্থা বেশি রয়েছে। অনেকের অভিমত, চিকিৎসার নামে হয়রানির শিকার হতে হয়নি। একটি ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা একাধিকবার করানো হয় না। চিকিৎসকরা রোগীকে যথেষ্ট সময় দেন। রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে রোগের বিষয়ে খোলামেলা এবং দীর্ঘ সময় নিয়ে কথা বলেন। চিকিৎসা সংক্রান্ত খরচ বাংলাদেশের তুলনায় অনেকটা কম। এছাড়াও হাসপাতালগুলোতে ভর্তিকৃত রোগীদের সঙ্গে চিকিৎসক ও নার্সরা সুন্দর আচরণ করেন। এতেই রোগীরা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এসব কারণে চিকিৎসাব্যবস্থায় বাংলাদেশিদের কাছে ভারতনির্ভরতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ভারত সরকার ও সেখানকার হাসপাতালগুলো বাংলাদেশিদের জন্য নানা পরিষেবা চালু করেছে।

আরেকটা কথা উল্লেখ করতে হয়, আমাদের দেশে এখন চিকিৎসার নামে চলছে প্রতারণা। আর্তমানবতার সেবার বদলে যেভাবেই হোক অর্থ আদায় এ পেশার সুনামকে জিম্মি করে ফেলা হয়েছে। প্রতারণার ক্ষেত্রে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা তথাকথিত হাসপাতাল বা ক্লিনিক শুধু নয়, অভিজাত হাসপাতালগুলোও পিছিয়ে নেই। নিরাপদে সন্তান প্রসবের জন্য কেউ হাসপাতাল বা ক্লিনিকে ভর্তি হলেই তাকে পাঠানো হচ্ছে সিজারিয়ানের জন্য। স্বাভাবিক সন্তান প্রসবের বদলে রোগী ও প্রসূতির জীবন নিয়ে শঙ্কার ভয় ঢুকিয়ে অস্ত্রোপচারের আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। অতি সম্প্রতি চোখের ছানি অপারেশনের নামে ২০ রোগীর চোখ নষ্ট করে ফেলেছে চুয়াডাঙ্গার একটি চক্ষু হাসপাতাল। সরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর কার্যক্রমেও রয়েছে অস্বস্তিকর অবস্থা। সরকারের কর্তাব্যক্তিরা চিকিৎসা খাতের অনিয়ম-অবহেলার বিরুদ্ধে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেই খালাস। ফলে কাটছে না বেহাল অবস্থা। দেশে প্রতি বছরই সরকারি খরচে তৈরি হচ্ছে একের পর এক ক্লিনিক ও হাসপাতাল। যন্ত্রপাতি, ওষুধপথ্যের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে সরকারি তহবিল থেকে। এসব চিকিৎসালয়ে চিকিৎসক, নার্স, আয়াসহ কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকলেও থাকে না কাক্সিক্ষত চিকিৎসাসেবা। রাজধানী থেকে নিভৃত পল্লী পর্যন্ত বিরাজ করছে অভিন্ন অবস্থা। চিকিৎসকের বদলে নার্স, ওয়ার্ডবয়, আয়ারা রোগী দেখা থেকে শুরু করে অস্ত্রোপচার পর্যন্ত করছে অবলীলায়। যে কারণে মাঝেমধ্যেই রোগীর পেটের ভেতর গজ-ব্যান্ডেজ, ছুরি-চাকু রেখে সেলাই করে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে চালু রয়েছে দালালদের রাজত্ব। তারা নানা কায়দা-কৌশলে অসহায় রোগীদের কাছ থেকে অবৈধ উপায়ে হাতিয়ে নিচ্ছে অর্থ। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা চিকিৎসকদের সেবার মনোভাব নিয়ে রোগীদের চিকিৎসা করার জন্য বারবার আহ্বান জানাচ্ছেন। কিছুদিন আগে রাষ্ট্রপতি এম আবদুল হামিদ এক অনুষ্ঠানে বিনা প্রয়োজনে মেডিকেল টেস্ট করার জন্য রোগীদের ব্যবস্থাপত্র না দিতে চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অনেক রোগীর চিকিৎসা ব্যয় বহন করার সামর্থ্য নেই। চিকিৎসার নামে অনেক রোগী হয়রানির শিকার হয়ে থাকেন। এক শ্রেণির চিকিৎসক বিনা প্রয়োজনে রোগীদের মেডিকেল টেস্ট করাতে দেন। আসলে আমাদের দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা সেবামূলক না হয়ে ব্যবসায়িক হয়ে যাওয়ায় রোগীদের ছুটে বেড়াতে হচ্ছে। গরিব আর অসহায়দের চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণও করতে হচ্ছে। চিকিৎসার নামে ব্যবসা আর অপচিকিৎসা বন্ধ না হলে জনদুর্ভোগ বেড়েই চলবে। হ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে উপমহাদেশের প্রখ্যাত চিকিৎসক দেবী শেঠি বাংলাদেশি চিকিৎসকদের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে আমাদের দেশের চিকিৎসকরা ভালো চিকিৎসা দিয়েছেন। আর তার পরামর্শেই ওবায়দুল কাদেরকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। প্রথমেই বলতে হয় দেবী শেঠির কথা। তিনি সেবার মনোভাব নিয়েই চিকিৎসা করেন। যার কারণে ভারতের পদ্মভূষণ পদক লাভ করেছেন। তিনি শ্রেষ্ঠ চিকিৎসক হিসেবে তো বটেই, স্বল্প খরচে উন্নত চিকিৎসা প্রদানস্বরূপ এ পদক পেয়েছেন। কার্ডিয়াক সার্জন ডা. দেবী প্রসাদ শেঠি নারায়ণ হেলথের চেয়ারম্যান ও উদ্যোক্তা। দেবী শেঠি ভারতের কর্নাটক রাজ্যের দক্ষিণ কনাডা জেলার কিন্নিগলি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ৯ ভাইবোনের মধ্যে অষ্টম শেঠি মেডিকেলে পঞ্চম গ্রেডে পড়ার সময় তৎকালীন দক্ষিণ আফ্রিকার সার্জন কর্তৃক বিশ্বের প্রথম হৃৎপি- প্রতিস্থাপনের কথা শুনে কার্ডিয়াক সার্জন হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৯১ সালে ৯ দিন বয়সি শিশু রনির হৃৎপি- অপারেশন করেন, যা ভারতের প্রথম সফল শিশু হৃৎপি- অস্ত্রোপচার। তিনি কলকাতায় মাদার তেরেসার ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর কিছুকাল পর তিনি ব্যাঙ্গালুরুতে চলে যান এবং মনিপাল হার্ট ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ১৫ হাজারের বেশি কার্ডিয়াক সার্জারি করেছেন। এই তো গেল দেবী শেঠির কথা। একজন চিকিৎসকের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি সেবার মনোভাবটাকে প্রাধান্য দিতে হবে। তবেই তিনি প্রকৃত চিকিৎসক। ‘চিকিৎসক মানেই সেবক’ এটা মনে রাখতে হবে। চিকিৎসক যখন অর্থলোভী হন, তখনই যত বিপত্তি ঘটে। দুর্নাম হয় গোটা চিকিৎসক সমাজের। বাংলাদেশে অভিজ্ঞ, দক্ষ আর সেবার মনোভাব নিয়ে চিকিৎসা করেন, এমন অনেকেই আছেন। তারা চিকিৎসাকে ব্যবসা নয়, সেবা মনে করেন। প্রিয় পাঠকের জ্ঞাতার্থে আমি আমার নিজের একটা ঘটনার কথা উল্লেখ করতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া আমার বড় মেয়ের (সুরাইয়া সিদ্দিকী বৃষ্টি) ব্রেন টিউমার ধরা পড়ে এবং অবস্থা জঠিল আকার ধারণ করে। একজন নিউরোমেডেসিনের অধ্যাপক দুজন নিউরো সার্জনের কাছে রেফার করলেন। প্রথমজনের কাছে গেলে তিনি বললেন, ‘যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অপারেশন করতে হবে, তা না হলে সর্বনাশ হয়ে যাবে’ (তিনি একজন সাবেক মন্ত্রীর ভাই)। তিনি ১২ লাখ টাকা দাবি করলেন। তারপর গেলাম অপরজনের কাছে। তিনি হলেন অধ্যাপক ডা. রাজিউল হক (শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে বসেন)। তিনি বললেন, তাড়াতাড়ি অপারেশন করা দরকার। খুবই ভালো ব্যবহার করলেন। আর টাকা চাইলেন সব মিলিয়ে চার লাখ। আমার মেয়ে উনাকে বলল, আমার বাবা একজন গরিব মানুষ। উত্তরে তিনি বললেন, ‘ভর্তি হও দেখা যাবে।’ ২০১৮ সালের ১০ ডিসেম্বর মেয়েকে ভর্তি করলাম। ১১ ডিসেম্বর অপারেশন হলো। সফল অপারেশন। দৈনিক সাড়ে ৫ হাজার টাকা কেবিন ভাড়া, উন্নতমানের সেবা (খাবারসহ) প্রয়োজনীয় ওষুধ হাসপাতাল থেকেই দেওয়া হলো। ১৪ ডিসেম্বর রিলিজ দেওয়া হলো আর সব মিলিয়ে তিনি টাকা নিলেন ১ লাখ ৬৬ হাজার। অথচ আমার পরিচিত সবাই বললেন, বাংলাদেশে এ অপারেশন সম্ভব নয়, সবাই বললেন ভারতে নিয়ে যেতে। অন্যদিকে আমি যে বাসায় থাকি তারই পাশে এক ধনী ব্যক্তি (বাবু মিয়া) তার ছেলেকে ব্রেন টিউমার অপারেশন করান ভারতের চেন্নাইয়ে। কিন্তু সফল হয়নি। তিন মাস আগে সে মারা গেছে। যাক সে কথা। আমাদের দেশে অনেক ভালো চিকিৎসক আছেন। তবে কিছু কিছু অনভিজ্ঞ ও অর্থলোভীর কারণে গোটা চিকিৎসক সমাজের বদনাম। একই কারণে আমার দেশের লোকজন চিকিৎসার জন্য প্রতিবেশী ভারতে বা অন্য দেশে ছুটছেন। যাদের প্রচুর টাকা আছে তারা স্বাভাবিক কারণেই বিদেশ যান বা যাবেন। কিন্তু মধ্যবিত্ত বা নিম্ন মধ্যবিত্তরাও জায়গাজমি বিক্রি করে বিদেশে, বিশেষ করে ভারতে ছুটছেন। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার বাংলাদেশি চিকিৎসার জন্য ছুটে যাচ্ছেন প্রতিবেশী ভারতে। বেশিরভাগ মানুষ যাচ্ছেন ভারতের চেন্নাই, ভেলোর, ব্যাঙ্গালুরু ও কলকাতায়। এছাড়াও দিল্লি ও হায়দরাবাদেও যাচ্ছেন অনেকেই। সহনীয় খরচে উন্নত চিকিৎসার আশায় বাংলাদেশিদের মধ্যে ভারতনির্ভরতা বেড়েই চলেছে। জটিল ও কঠিন রোগ ছাড়াও সামান্য রোগের জন্যই ভারতে ছুটে যাচ্ছেন বাংলাদেশিরা। একটি পত্রিকার খবরÑ ‘চট্টগ্রামের ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত বছর (২০১৮ সাল) চট্টগ্রাম থেকে ভারতীয় ভিসা নিয়েছেন এক লাখ ৯০ হাজার মানুষ। এর মধ্যে চিকিৎসা ভিসা নিয়েছেন ৭০ হাজারেরও বেশি। ২০১৭ সালে চট্টগ্রাম থেকে এক লাখ ৩৫ হাজার ৩০০ মানুষ ভারতীয় ভিসা নিয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা ভিসা নিয়েছেন ৫৫ হাজার রোগী। প্রতি বছর মেডিকেল ভিসার সংখ্যা বেড়েই চলেছে।’ ভারতে যাওয়ার একটা বড় কারণ হচ্ছে, বিশ্বাস, ব্যবহার, আচরণ আর রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিয়ে অনেকটা সন্তুষ্টি। বিশেষ করে ডায়াগনস্টিক বিষয়ের প্রতি আস্থা বেশি রয়েছে। অনেকের অভিমত, চিকিৎসার নামে হয়রানির শিকার হতে হয়নি। একটি ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা একাধিকবার করানো হয় না। চিকিৎসকরা রোগীকে যথেষ্ট সময় দেন। রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে রোগের বিষয়ে খোলামেলা এবং দীর্ঘ সময় নিয়ে কথা বলেন। চিকিৎসা সংক্রান্ত খরচ বাংলাদেশের তুলনায় অনেকটা কম। এছাড়াও হাসপাতালগুলোতে ভর্তিকৃত রোগীদের সঙ্গে চিকিৎসক ও নার্সরা সুন্দর আচরণ করেন। এতেই রোগীরা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এসব কারণে চিকিৎসাব্যবস্থায় বাংলাদেশিদের কাছে ভারতনির্ভরতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ভারত সরকার ও সেখানকার হাসপাতালগুলো বাংলাদেশিদের জন্য নানা পরিষেবা চালু করেছে। আরেকটা কথা উল্লেখ করতে হয়, আমাদের দেশে এখন চিকিৎসার নামে চলছে প্রতারণা। আর্তমানবতার সেবার বদলে যেভাবেই হোক অর্থ আদায়Ñ এ পেশার সুনামকে জিম্মি করে ফেলা হয়েছে। প্রতারণার ক্ষেত্রে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা তথাকথিত হাসপাতাল বা ক্লিনিক শুধু নয়, অভিজাত হাসপাতালগুলোও পিছিয়ে নেই। নিরাপদে সন্তান প্রসবের জন্য কেউ হাসপাতাল বা ক্লিনিকে ভর্তি হলেই তাকে পাঠানো হচ্ছে সিজারিয়ানের জন্য। স্বাভাবিক সন্তান প্রসবের বদলে রোগী ও প্রসূতির জীবন নিয়ে শঙ্কার ভয় ঢুকিয়ে অস্ত্রোপচারের আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। অতি সম্প্রতি চোখের ছানি অপারেশনের নামে ২০ রোগীর চোখ নষ্ট করে ফেলেছে চুয়াডাঙ্গার একটি চক্ষু হাসপাতাল। সরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর কার্যক্রমেও রয়েছে অস্বস্তিকর অবস্থা। সরকারের কর্তাব্যক্তিরা চিকিৎসা খাতের অনিয়ম-অবহেলার বিরুদ্ধে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেই খালাস। ফলে কাটছে না বেহাল অবস্থা। দেশে প্রতি বছরই সরকারি খরচে তৈরি হচ্ছে একের পর এক ক্লিনিক ও হাসপাতাল। যন্ত্রপাতি, ওষুধপথ্যের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে সরকারি তহবিল থেকে। এসব চিকিৎসালয়ে চিকিৎসক, নার্স, আয়াসহ কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকলেও থাকে না কাক্সিক্ষত চিকিৎসাসেবা। রাজধানী থেকে নিভৃত পল্লী পর্যন্ত বিরাজ করছে অভিন্ন অবস্থা। চিকিৎসকের বদলে নার্স, ওয়ার্ডবয়, আয়ারা রোগী দেখা থেকে শুরু করে অস্ত্রোপচার পর্যন্ত করছে অবলীলায়। যে কারণে মাঝেমধ্যেই রোগীর পেটের ভেতর গজ-ব্যান্ডেজ, ছুরি-চাকু রেখে সেলাই করে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে চালু রয়েছে দালালদের রাজত্ব। তারা নানা কায়দা-কৌশলে অসহায় রোগীদের কাছ থেকে অবৈধ উপায়ে হাতিয়ে নিচ্ছে অর্থ। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা চিকিৎসকদের সেবার মনোভাব নিয়ে রোগীদের চিকিৎসা করার জন্য বারবার আহ্বান জানাচ্ছেন। কিছুদিন আগে রাষ্ট্রপতি এম আবদুল হামিদ এক অনুষ্ঠানে বিনা প্রয়োজনে মেডিকেল টেস্ট করার জন্য রোগীদের ব্যবস্থাপত্র না দিতে চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অনেক রোগীর চিকিৎসা ব্যয় বহন করার সামর্থ্য নেই। চিকিৎসার নামে অনেক রোগী হয়রানির শিকার হয়ে থাকেন। এক শ্রেণির চিকিৎসক বিনা প্রয়োজনে রোগীদের মেডিকেল টেস্ট করাতে দেন। আসলে আমাদের দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা সেবামূলক না হয়ে ব্যবসায়িক হয়ে যাওয়ায় রোগীদের ছুটে বেড়াতে হচ্ছে। গরিব আর অসহায়দের চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণও করতে হচ্ছে। চিকিৎসার নামে ব্যবসা আর অপচিকিৎসা বন্ধ না হলে জনদুর্ভোগ বেড়েই চলবে।

লেখক: এবি সিদ্দিক , সাংবাদিক

 

অ্যাম্বুলেন্স হার্বাল ও আয়ুর্বেদিক হোমিওপ্যাথি রুপ চর্চা