পা যেভাবে জানান দেয় রোগের লক্ষণ

    শরীরের কোথাও অসুখ বাসা বাঁধলে তা শুধু সেখানেই সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং সাড়া শরীরেই এর ক্ষতিকর কিছু প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে। আমাদের চোখ, জিহ্বা, নখের অবস্থায় প্রকাশিত হয় বেশ কিছু পরিচিত রোগের উপসর্গ। পায়ের অবস্থা দেখেও কিছুটা আঁচ করা যায় কয়েকটি রোগের উপসর্গ। জেনে নেয়া যাক ওই রোগের উপসর্গগুলো

    ঠান্ডা পা :

    সব সময়েই কী আপনার ইচ্ছে করে গরম মোজা পরে থাকতে? তাহলে আপনার হাইপোথাইরয়েডিজমের সমস্যাটি থাকতে পারে। এক্ষেত্রে থাইরয়েড মেটাবলিজম নিয়ন্ত্রণের জন্য দরকারি যথেষ্ট হরমোন উৎপাদন করতে পারে না। এতে মেটাবলিজম ধীর হয়ে যায় এবং আপনার শরীর যথেষ্ট তাপ উৎপাদন করতে পারে না। ফলে হাত এবং পা সবসময় ঠান্ডা হয়ে থাকতে দেখা যায়। থাইরয়েডে সমস্যা থাকলে পায়ের ত্বকও শুষ্ক হয়ে যেতে পারে।

    হলদে নখ :

    পায়ের আঙ্গুলের নখগুলো হলদে হয়ে যেতে পারে অনেক সময়ে। অনেকেই একে পাত্তা দেন না, ভাবেন পায়ের নখ তো ময়লা হয়, এমনটা হতেই পারে। কিন্তু এটা হতে পারে ইয়েলো নেইল সিনড্রোমের কারণে। এটা হয় একটা সাধারণ ফাঙ্গাসের উপদ্রব থেকে। কিন্তু কিছু দুর্লভ ক্ষেত্রে এটা শ্বসনতন্ত্রের সমস্যা বা লিমফেডেমার কারণেও দেখা দিতে পারে।
    বুড়ো আঙ্গুল বড় হয়ে যাওয়া : অনেক সময়ে পায়ের বুড়ো আঙ্গুল অস্বাভাবিক রকমের ফুলে যায় এবং ব্যাথা হয়। এটা হলো গাউটের লক্ষণ, এক ধরণের আর্থ্রাইটিস। শরীরে অতিরিক্ত ইউরিক এসিড জমা হতে হতে এক সময় ক্রিস্টাল হয়ে সেগুলো জমে গিঁটে গিঁটে। অনেক সময়েই তা বুড়ো আঙ্গুলে জমা হয় এমনভাবে।

    পায়ে টান লাগা :

    এটাকেও আমরা স্বাভাবিক বলে উড়িয়ে দেই। যারা শরীরচর্চা করেন বা শারীরিক পরিশ্রমের কাজ করেন তাদের প্রায়ই পায়ে টান লাগতে পারে। অনেক সময়েই তা হয় যথেষ্ট পানি পান না করলে। কিন্তু আপনার শরীরে যদি প্রয়োজনীয় ইলেক্ট্রোলাইটের অভাব দেখা দেয় তাহলেও এটা হতে পারে। পায়ে হঠাৎ করে টান বা খিঁচ লাগলে এর কারণ হতে পারে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম বা ক্যালসিয়ামের অভাব।

    অস্বাভাবিক নখ :

    পায়ে আঘাত লেগে বা অন্য কেউ ভুলে পায়ের উপর পা ফেলে দিলে নখে কিছুটা বিকৃতি দেখা দেয়। হয় নখে দাগ হয় বা নখের আকৃতি পরিবর্তিত হয়। কিন্তু এমন কোনো কারণ ছাড়াই যদি নখে দাগ বা পরিবর্তন দেখা যায় তাহলে চিন্তার কারণ আছে বই কী। নখের নিচে যদি কালো বা বাদামি লম্বা লম্বা দাগ দেখা যায়, তাহলে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। কারণ এই লম্বা দাগ হতে পারে এক ধরণের ক্যান্সারের লক্ষণ। নখে ছোট ছোট ছিদ্র বা লম্বাটে ছিদ্র হতে পারে সোরিয়াসিসের লক্ষণ। ভেতরের দিকে বসে যাওয়া নখ হতে পারে অ্যানিমিয়া বা লুপাসের লক্ষণ। হার্টের সমস্যাও আপনাকে বলতে পারে নখের ভেতরে দেখা দেয়া লালচে লম্বাটে দাগ।

    সকালে পায়ে ব্যাথা হওয়া :

    ঘুম থেকে উঠে হাঁটার চেষ্টা করলে পায়ে যদি তীক্ষè ব্যাথা হয়, তাহলে সেটা রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের উপসর্গ হতে পারে। প্ল্যান্টার ফ্যাসাইটিস নামের একটি সমস্যাও এর পেছনে থাকতে পারে।

    দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত :

    শরীরে ক্ষত হবে, সেটা সেরেও যাবে এমনটাই হয়। কিন্তু আপনি যদি লক্ষ্য করেন পায়ে অনেকদিন ধরে ক্ষত হয়ে আছে কোনও কারণে, কিন্তু অনেক সময় পেরিয়ে যাবার পরেও তা সারছে না, তাহলে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। আপনার হয়তো ডায়াবেটিস আছে, আপনি তা জানেনও না। ডায়াবেটিসের আরো একটি লক্ষণ হলো পায়ের অসাড়তা।

     

    সংগৃহীত