রাতের শিফটে কাজ করলে বাড়ে ক্যান্সার ঝুঁকি

    ডাক্তার, পুলিশ, সাংবাদিক কিংবা অন্য পেশা। অনেককেই রাতের শিফটে কাজ করতে হয় নিজ নিজ কর্মস্থানে। কিন্তু রাতের শিফটে কাজ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সার্কাডিয়ান ছন্দ ব্যাহত করে। ফলে ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সাম্প্রতি গবেষকগণ কয়েকটি গবেষণায়ে এর কারণ ব্যাখ্যা করেছেন।

    এম আই টি এর কিছু গবেষক আবিষ্কার করেছেন যে সার্কাডিয়ান ছন্দ ব্যাহত হলে টিউমার প্রতিহত করার দুইটি জীনের প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, এতে টিউমারের বৃদ্ধি হয়। এম আই টির থালেস পাপাগিয়ান্নাকপুলস এবং তার গবেষকদল নতুন গবেষণায় এই তথ্য ‘সেল মেটাবলিজম’ নামক জার্নালে প্রকাশ করেন।

    যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় দেড় কোটি লোকের উপর গবেষণা করে দেখা গেছে যে, রাতের শিফটে যারা কাজ করে থাকেন তাদের স্বাস্থ্যে ধীরে ধীরে ক্ষতিকর প্রভাব পরতে শুরু করে। এছাড়া মেডিকেল নিউজ টুডে নামক প্রকাশনায় গতবছরে একটি রিপোর্টে বলা হয়, রাতের ডিউটি সমানুপাতিকভাবে মৃত্যুঝুঁকি, হৃদরোগ, ফুসফুসে ক্যান্সার ইত্যাদি বাড়িয়ে দেয়।

    দিন এবং রাতের সংস্পর্শে মানুষের চোখের সংবেদনশীল অংশের রেটিনায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, ফলে হাইপোথালামাসের সুপ্রাকাইয়াজমেটিক নিউক্লিয়াসে অবস্থিত মানুষের সেন্ট্রাল সার্কাডিয়ান রিদম অথবা মাস্টার ক্লক অথবা দেহ ঘড়িতে তথ্য পৌঁছে দেয়। এই তথ্য মানুষের সাড়া শরীরে পৌঁছে দেয় সুপ্রাকাইয়াজমেটিক নিউক্লিয়াস। মাস্টার ক্লককে পরিচালনা করে Bmal 1 and Per2 নামের এই দুই টি জিন। সার্কাডিয়ান ছন্দ রাতের বেলা কাজ করলে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তাই টিউমার প্রতিহত জীনের কার্যকারিতা নষ্ট হয়। টিউমারের বৃদ্ধি এতে বেড়ে যেতে থাকে।