রমজানে ৮ স্বাস্থ্য সমস্যা


বছর ঘুরে আবারও শুরু হলো রমজান মাস। রমজান মাসে সিয়াম সাধনার জন্য সারা দিন না খেয়ে থাকতে হয়। বছরের প্রতিদিনের রুটিনে হঠাৎই পরিবর্তনে কারও কারও রোজা রাখার দরুন কিছু সাধারণ শারীরিক সমস্যা হতে পারে। এসব সাধারণ সমস্যা সমাধান করেই সুস্থ দেহে রোজা রাখতে হবে। রমজান মাসে শারীরিক সাধারণ সমস্যাগুলোর আরেকটি বড় কারণ এ মাসে অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস। তাই রমজানে খাবার তালিকায় কিছুটা পরিবর্তন করলে এসব সাধারণ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। রোজা রাখার দরুন যেসব শারীরিক সমস্যা হতে পারেÑ বদহজম ও পেটফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্য, মাথাব্যথা, নিম্ন রক্তচাপ, খিঁচুনি, গ্যাস্ট্রিক আলসার, বুকজ্বলা, রক্তে কোলেস্টেরলজনিত সমস্যা ইত্যাদি। আসুন জেনে নিই রমজানে এসব শারীরিক সমস্যা সমাধানে করণীয়-

১. বদহজম ও পেটফাঁপা : সাহরিতে অধিক আমিষ ও মশলাযুক্ত খাবার খেলে ও ইফতারিতে ভাজাপোড়া, তৈলাক্ত খাবার বেশি খেলে সাধারণত বদহজমসহ পেট ফেঁপে থাকে। তাই সাহরি ও ইফতারিতে সুষম খাবার খাওয়ার মাধ্যমে এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এছাড়াও সাহরিতে পর্যাপ্ত পানি পান না করলেও বদহজম হতে পারে। সাধারণত ডিম, গরুর মাংস, মসুরের ডাল ও মশলা পেটে প্রচুর গ্যাস তৈরি করে। যাদের এগুলো খেলে গ্যাস হয় তাদের এসব খাবার সাহরিতে না খাওয়াই ভালো। ইফতারিতে তেলে ভাজা খাবার ও খালি পেটে কোমল পানীয় বা কেমিক্যালযুক্ত শরবত খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। প্রয়োজনে ফলের জুস বা ঘরে তৈরি লেবুর ও ইসপগুলের শরবত খান। এতে পেট ঠান্ডা থাকবে।

২.কোষ্ঠকাঠিন্য : সাহরি ও ইফতারিতে অধিক আমিষ, ভাজাপোড়া, অপরিমিত শাকসবজির অভাবে কোষ্ঠকাঠিন্য হয়। কোষ্ঠকাঠিন্যের আরেকটি মূল কারণ শরীরে পানির অভাব। তাই ইফতারি থেকে সাহরি পর্যন্ত একটু পর পর প্রচুর পানি খেতে হবে। খাবার তালিকায় আমিষের পরিমাণ কমিয়ে অধিক আঁশযুক্ত খাবার খেতে হবে। আর যারা আগে থেকেই কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভুগছেন তারা ইফতারিতে ইসপগুলের ভুসি খাবেন ও প্রতি বেলার খাবারে আঁশযুক্ত খাবার বেশি করে খাবেন।

৩.মাথাব্যথা : যারা দিনে রুটিন মাফিক চা পান করেন ও যারা ধূমপান করেন রোজা রাখার দরুন তাদের দিনের কোনো সময় মাথাব্যথা হতে পারে। তাই রোজা শুরু হওয়ার আগে থেকেই চা, কফি ও ধূমপান গ্রহণের পরিমাণ কমিয়ে আনতে হবে। যাদের রোজায় মাথাব্যথা হয় তারা ওই সময়টাতে একটু বিশ্রামে থাকবেন, প্রয়োজনে একটু ঘুমিয়ে নিতে পারেন।

৪.ব্লাডপ্রেসার কমে যাওয়া : শরীরে খাবারের চাহিদা না থাকায় অনেকেরই রোজার সময় বিকালের দিকে ব্লাডপ্রেসার কমে যায় আর এতে শরীর দুর্বলসহ মাথা ঘুরতে পারে। সাধারণত শরীরে লবণ, পানি ও গ্লুকোজের অভাবে এমনটা হয়। যাদের এ সমস্যা হয় তারা রোজার শেষের দিকে পূর্ণ বিশ্রামে থাকবেন ও প্রয়োজনে ঘুমাতে হবে। নিয়মিত এ সমস্যা হলে সাহরি ও ইফতারিতে একটু লবণযুক্ত খাবার বা ওরস্যালাইন খেতে পারেন।

৫.পানিশূন্যতা : চলছে ভয়াবহ ভ্যাপসা গরম। এ গরমে দিনের একটা লম্বা সময় ধরে আমাদের রোজা রাখতে হবে। তাই দিনের বেলা যখন রোদের তীব্রতা খুব বেশি থাকে সে সময়টাতে রোদে না যাওয়াই ভালো। কারণ আমরা যদি রোজা রেখে রোদে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে পড়ি তবে দেহে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। আর এ ভ্যাপসা গরম থেকে হিটস্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কাও থেকে যায়। ইফতারির পর প্রতি রাতে কমপক্ষে তিন থেকে চার লিটার পানি পান করতে হবে।

৬.খিঁচুনি : রোজার কারণে অনেকের মাংসপেশিতে খিঁচুনি হতে পারে। সাধারণত শরীরে মিনারেলের অভাবে এমনটা হয়। তাই সাহরি ও ইফতারিতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়ামসহ অন্যান্য মিনারেলযুক্ত খাবার পরিমাণ মতো খেতে হবে। শাকসবজি, কলা, ফল, খেজুর খাওয়ার মাধ্যমে আমরা শরীরে এ মিনারেলের ঘাটতি পূরণ করতে পারি।

৭.গ্যাস্ট্রিক ও বুকজ্বলা : রোজায় গ্যাস্ট্রিকের কারণে অনেকেরই বুকসহ পেট জ্বলতে পারে। যাদের এ সমস্যা আছে তাদের অবশ্যই সাহরি ও ইফতারিতে খাবারে কিছুটা পরিবর্তন আনতে হবে। অধিক তেলযুক্ত খাবার, চর্বিযুক্ত খাবার, দুধ, চা, কফি খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। ইফতারিতে ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত মশলাযুক্ত, লবণযুক্ত খাবার খাওয়া বাদ দিতে হবে। অন্যদিকে রসুন, পেঁয়াজ, মসুর ডাল, কোমল পানীয়, বাঁধাকপি, বাদাম ইত্যাদি পেটে গ্যাস তৈরি করে, তাই এগুলোও কম খেতে হবে ও বেশি করে পানি পান করতে হবে।

৮.রক্তে কোলেস্টেরলজনিত সমস্যা : যাদের রক্তে কোলেস্টেরলজনিত সমস্যা আছে তাদের ইফতারি ও সাহরিতে ডিম, ডিমের তৈরি খাবার, ঘি ও বাটারযুক্ত খাবার, তেলেভাজা খাবার, পশুর গোশত, মগজ ও কলিজা খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

- হেলথবিডি২৪

অ্যাম্বুলেন্স হার্বাল ও আয়ুর্বেদিক হোমিওপ্যাথি রুপ চর্চা