মুখের অসুখে ফলিক এসিড


ফলিক এসিড হলো পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন বি৯, যা রক্তস্বল্পতায় আয়রনের সঙ্গে প্রদান করা হয়। কোনো কোনো সময় যেমন গর্ভাবস্থায় শুধু ফলিক এসিডও প্রদান করা হয়। ফলিক এসিড ও আয়রন এককথা নয়। ফলিক এসিড ফলেট নামেও পরিচিত। ফলিক এসিড বা ফলেট ভিটামিন বি৯ পরিবারের সদস্য। ফলিক এসিড পাওয়া যায় তাজা সবুজ শাকসবজি এবং কলিজায়। যেহেতু ফলিক এসিড পানিতে দ্রবণীয় তাই এটি শরীরে সঞ্চিত থাকে না। প্রয়োজনের অতিরিক্ত গ্রহণ করা ফলিক এসিড প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে যায়। মানবদেহে লোহিত রক্তকণিকা তৈরি হয় অস্থিমজ্জায়। লোহিত রক্তকণিকা মাত্র চার মাস বেঁচে থাকে। তাই আবার লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে শরীরের প্রয়োজন হয় আয়রন, ভিটামিন বি১২ এবং ফলিক এসিড। অতএব দেখা যাচ্ছে, লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে ফলিক এসিডের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলিক এসিডের অভাবে শরীর দুর্বলতা, ধূসর বর্ণের চুল, মুখের আলসার এবং জিহ্বায় ফোলাভাব দেখা যেতে পারে। মুখ এবং জিহ্বার আলসার যদি ফলিক এসিডের অভাবজনিত কারণে হয় তবে সেক্ষেত্রে ফলিক এসিড প্রদান না করলে কোনোভাবেই মুখের আলসার ভালো হবে না। ফলিক এসিড এন্টি এপিলেপটিক ওষুধের সঙ্গে বিক্রিয়া করে। তাই মৃগী রোগীদের ফলিক এসিড গ্রহণ করতে হলে যথাযথ মাত্রায় তা সেবন করতে হবে। আমাদের দেশে মুখে বা জিহ্বায় আলসার হলে মুখস্থ রিবোফ্লাভিন ট্যাবলেট খেতে দেয়া হয়। একথা সত্য যে, রিবোফ্লাভিন বা ভিটামিন বি২ মুখের ক্ষত সারাতে সাহায্য করে; কিন্তু মুখের আলসার যদি ফলিক এসিডের অভাবজনিত কারণে হয় তবে সেক্ষেত্রে রিবোফ্লাভিন বা ভিটামিন বি২ রোগীকে খেতে দিলে মুখ বা জিহ্বার আলসার ভালো হবে না। দৈনন্দিন খাদ্যদ্রব্যের তালিকায় ফলিক এসিড অনুপস্থিত থাকলে শরীরে ফলিক এসিডের অভাব হতে পারে। এছাড়া ক্ষুদ্রান্ত্রের রোগ সিলিয়াক ডিজিজেও ফলিক এসিডের অভাব হতে পারে। তাই শরীরের জন্য সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন অথচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ ফলিক এসিড বা ভিটামিন বি৯ এর কোনো ঘাটতি যেন না হয়, সে ব্যাপারে আমাদের সবার সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

 

ডা. মো. ফারুক হোসেন

মুখ ও দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ

অ্যাম্বুলেন্স হার্বাল ও আয়ুর্বেদিক হোমিওপ্যাথি রুপ চর্চা