অ্যালার্জির কারন যখন ফুল


আমাদের দেশ ঋতুবৈচিত্র্যের দেশ। আর ঋতুবৈচিত্র্যের সঙ্গে সঙ্গে গাছে বিভিন্ন ফুলের আগমন দেখতে ভালোই লাগে। এ ভালো লাগা কারও কারও জীবনে হয়ে ওঠে দুর্বিষহ; বিশেষ করে যাদের অ্যালার্জিজনিত অ্যাজমার সমস্যা আছে। ঘাস, আগাছা এবং বৃক্ষ থেকে ভেসে আসা পুষ্পরেণু হে ফিভার এবং অ্যাজমার উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে। পরাগায়নের ঋতু চলতে থাকে কয়েক মাস ধরে। এতে অ্যালার্জি রোগীদের পক্ষে পুষ্পরেণু এড়িয়ে চলা খুব কঠিন। তবু কিছুটা সাবধানতা অবলম্বন করলে রোগপ্রতিরোধ এবং এর উপসর্গ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

পুষ্পরেণু থেকে মুক্ত থাকার কিছু নিয়ম -

১. দুপুর পর্যন্ত ঘরে থাকুন। দুপুরের পর বাতাসে পুষ্পরেণুর পরিমাণ অপেক্ষাকৃত কম হয়। ঝড়ের দিন বা প্রবল বাতাস থাকলে বাইরে যাবেন না।

২. চোখ বাঁচানোর জন্য চশমা ব্যবহার করুন।

৩. বাগানের ঘাস কাটায় নিজেকে জড়ানো যাবে না। যদি কাটতেই হয়, তাহলে মাস্ক পরে কাজ করুন।

৪. বাড়ির বাগানে এমন ধরনের গাছ লাগান, যেগুলো অ্যালার্জি তৈরি করে না।

৫. বাড়ির জানালা বন্ধ রাখুন, বিশেষ করে রাস্তায় চলার সময় গাড়ির কাচ তুলে রাখুন।

৬. পরাগায়নের মৌসুমে বনভোজনে অংশ নেয়া থেকে বিরত থাকুন।

৭. ছুটির দিনগুলো দূষণমুক্ত এলাকায়, বিশেষ করে নদী বা সমুদ্রতীরে কাটাতে পারেন।

৮. বাড়ির বাগানের কোন গাছ বা আগাছার কারণে অ্যালার্জি হচ্ছে, তা নিশ্চিতভাবে জানতে পারলে গাছটি অপসারণ করুন।

৯. কাজ শেষে বাড়িতে ফিরেই গোসল করুন। সুযোগ পেলে পানি দিয়ে চোখ পরিষ্কার করুন।

১০. সঙ্গে সবসময় রুমাল বা টিস্যু পেপার রাখুন।

চিকিৎসা উপসর্গ দেখা দিলে ডাক্তারের কাছে যাবেন-

যদিও শুধু ওষুধের দ্বারা অ্যালার্জি নিরাময় করা যায় না। অ্যান্টিহিস্টামিন ট্যাবলেট বা সিরাপ আপনার হাঁচি, চুলাকানি বা চোখ জ্বলা কমাবে। তবে নাক বন্ধ হয়ে থাকা বা নাক দিয়ে সর্দি গড়ানোয় তেমন কার্যকরী হবে না। অ্যান্টিহিস্টামিনের সুবিধা হচ্ছে, যখন প্রয়োজন তখন ব্যবহার করলেই হলো। এর জন্য কোর্স পূর্ণ করার প্রয়োজন নেই। এখন মিশ্র ওষুধও পাওয়া যায়। যেমন অ্যান্টিহিস্টামিনের সঙ্গে স্যুডোফেড্রিন। নাকের মিশ্র স্প্রে যথেষ্ট কার্যকরী। এদের মধ্যে থাকে অ্যান্টিহিস্টামিন, যা দ্রুত হাঁচি এবং চুলকানি বন্ধ করে। ইপরাট্রোপিয়াম ক্রোমাইড নাক থেকে অবিরল পানি পড়া বন্ধ করে। ক্রোমাগ্লাইকেট, যা প্রদাহ কমায়। স্টেরয়েড, যা তীব্র প্রদাহে খুবই কার্যকরী। ইমিউনোথেরাপি ইনজেকশন : ওষুধ দিয়ে উপসর্গগুলোর উপশম ঘটানো যায় মাত্র; নিরাময় হয় না। কোনো কোনো চিকিৎসাবিজ্ঞানী অন্য পথের কথা বলেন। তারা অল্প ডোজে কিছু দিন পরপর অ্যালার্জেন পূর্ণ করেন রোগীর শরীরে ইনজেকশনের মাধ্যমে। এ ইনজেকশন দিতে হয় অনেক দিন ধরে, কখনও মাসের পর মাস, কখনও বছরের পর বছর। তবে এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়া অন্য কারও পক্ষে এ ইনজেকশন প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত নয়।

ডা. গোবিন্দ চন্দ্র দাস

সাবেক অধ্যাপক, অ্যালার্জি বিভাগ

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল 

অ্যাম্বুলেন্স হার্বাল ও আয়ুর্বেদিক হোমিওপ্যাথি রুপ চর্চা