অ্যালার্জির ভ্যাকসিন

    অনেকেরই ধারণা, অ্যালার্জির সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। ওষুধ দিয়ে কিছুদিন উপসর্গগুলো দমিয়ে রাখা যায়। তবে ওষুধ বন্ধ করলে আবার শুরু হয় উপসর্গ। এ কথা মোটেও অমূলক নয়। প্রায় ক্ষেত্রে এমনই দেখা দেয়। তাই জানা দরকার রোগটি আসলে অ্যালার্জিজনিত কিনা।

    অ্যালার্জিজনিত রোগের উপযুক্ত চিকিৎসা পদ্ধতি হলো অ্যালার্জিজাতীয় দ্রব্য এড়িয়ে চলা, ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা ও অ্যালার্জি ভ্যাকসিন বা ইমুনোথেরাপি। আমাদের দেশের বেশিরভাগ রোগীর অ্যালার্জি ভ্যাকসিন বা ইমুনোথেরাপি সম্পর্কে ধারণা নেই। তারা শুধু ওষুধ, বিশেষত সালবিউটামল বা অ্যামাইনোফাইলিনজাতীয় ওষুধই বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। যদিও স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ ইনহেলার, নেসাল স্প্রে, ইনজেকশন বা ট্যাবলেট আকারে অ্যালার্জি রোগের উপসর্গগুলো দ্রুত উপশম করেÑ তবুও এগুলোর রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। ফলে রোগী এসব ওষুধ বেশিদিন ব্যবহার করেন না। আবার সালবুটামল বা অ্যামাইনোফাইলিনজাতীয় ওষুধ সেবনে শরীর কাঁপানো, বমি বমি ভাব ও ঘুমের ব্যাঘাত হওয়ায় এটিও দীর্ঘদিন ব্যবহার করেন না। অ্যান্টিহিস্টামিনজাতীয় ওষুধ নেওয়ার পর ঘুম ঘুম ভাব, এমনকি দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটায়। তাই অ্যান্টিহিস্টামিনজাতীয় ওষুধ টানা না খেয়ে, মাঝে মধ্যে খান। এ জন্য রোগের উপসর্গগুলো থেকেই যায়। অ্যালার্জি ভ্যাকসিন চিকিৎসায় তেমন মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। যে অ্যালার্জেনের মাধ্যমে রোগী আক্রান্ত হয়ে থাকেন, এর মাধ্যমেই ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।

    অ্যালার্জি ভ্যাকসিন : অ্যালার্জেন ভ্যাকসিন বা ইমুনোথেরাপি এমন এক পদ্ধতিÑ যেখানে স্বল্পমাত্রা থেকে পর্যায়ক্রমে উচ্চতর মাত্রায় অ্যালার্জেন এক্সট্রাক্ট (যে অ্যালার্জেনের মাধ্যমে রোগীর উপসর্গ দেখা দেয়) অ্যালার্জিক ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করানো হয়। এতে পরবর্তীকালে অ্যালার্জেনের সংবেদনশীলতা কমে।যাদের ক্ষেত্রে ভ্যাকসিন কার্যকর : অ্যালার্জিক রাইনাইটিস, ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজমা, হাইমেনোপটেরা ভেনম - যাতে এনাফাইলোক্সিস বা অ্যালার্জিক বিক্রিয়া দেখা দেয়, কিছু ছত্রাক, যেমন - কডাস্পেরিয়াম ও অল্টরেনেরিয়ার মাধ্যমে অ্যালার্জিজনিত রোগ হলে।

    ইমুনোথেরাপি শুরুর বয়স : রোগের উপসর্গের শুরুর দিন থেকেই ইমুনোথেরাপি শুরু করা সম্ভব। কোনো কোনো ইমুনোথেরাপিস্ট মনে করেন, বয়স দুই-এক বছর থেকেই এ পদ্ধতিতে চিকিৎসা শুরু করা যায়। তবে মাইটি অ্যালার্জির ক্ষেত্রে পাঁচ বছরের নিচের বয়সী শিশুর ইমুনোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ইমুনোথেরাপির সফলতা প্রমাণিত। তবে অল্প বয়সে ইমুনোথেরাপি রোগমুক্তির অন্যতম প্রধান নিয়ামক।

    ইমুনোথেরাপির জন্য আপনি কতটুকু উপযুক্ত : যেসব অ্যালার্জেন অ্যালার্জি রোগের কারণ, তা নিরূপণের পর ইমুনোথেরাপির জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়। তবে ভিন্ন তিনটির অধিক অ্যালার্জেনের বিরুদ্ধে এ থেরাপি কার্যকর হয় না। এটি শুরুর আগে মারাত্মকভাবে রোগাক্রান্ত রোগীর পর্যাপ্ত ওষুধ ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাভাবিক অবস্থায় আনার পরই ইমুনোথেরাপি শুরু করা সম্ভব। দীর্ঘমেয়াদি জটিল রোগ, যেমনÑ­ নন-অ্যালার্জিক, সাইনোসাইটিস ও নেসাল পলিপ রোগীর ক্ষেত্রে ইমুনোথেরাপির কোনো ভূমিকা নেই।

    যাদের ভ্যাকসিন দেওয়া যাবে না : গুরুতর ইমুনোলজিক্যাল ও ইমুনোডেফিসিয়েন্সি রোগে যারা ভুগছেন, ক্যানসার, ভীষণ মানসিক ভারসাম্যহীনতা রোগে ভুগছেন এমন রোগী, বিটার ব্লকার দিয়ে চিকিৎসা করা হলে, রোগী সহযোগিতা না করলে, বড় ধরনের হৃদরোগ থাকলে, দুই বছরের নিচের শিশু, গর্ভবতী অবস্থায় ভ্যাকসিন শুরু করা ঠিক নয়, অবশ্য আগে থেকে চলতে থাকলে তা চালিয়ে যাওয়া যায়, গুরুতর অ্যাজমা যখন কোনোমতেই ওষুধের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত করা যায় না।

    ডা. গোবিন্দ চন্দ্র দাস

    অধ্যাপক, অ্যালার্জি  বিভাগ

    শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল