মানসিক সমস্যা বুঝবেন কিভাবে?

    ‘কনভার্সন ডিজঅর্ডার’ একটি মানসিক রোগ। তবে, এ রোগের উপসর্গগুলো শারীরিক। আক্রান্ত ব্যক্তির হাত-পা অবশ বা অনুভূতিহীন হয়ে যেতে পারে, খিঁচুনীর মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। আরও যেসব উপসর্গ দেখা যায় সেগুলো হচ্ছে - কথা বন্ধ হয়ে যাওয়া, চোখে দেখতে না পাওয়া, কানে শুনতে না পাওয়া, অস্বাভাবিক কাঁপুনি, খাবার গিলতে সমস্যা, প্র¯্রাব আটকে যাওয়া ইত্যাদি। রোগের উপসর্গ দেখে মনে হতে পারে, রোগী শারীরিক, বিশেষত বড় কোন স্নায়ুরোগে আক্রান্ত যেমন, স্ট্রোক, খিঁচুনী, পারকিন্সন্স ডিজিজ ইত্যাদি। কিন্তু পরীক্ষা-নিরীক্ষায় শারীরিক কোন রোগ ধরা পড়ে না। ফলে, রোগী ও তার আত্মীয়স্বজনরা বিভ্রান্ত হন। অনেকে মনে করেন, এটি এতই জটিল একটি রোগ যে, কোন ডাক্তার তা ধরতে পারছেন না বা পরীক্ষায় ধরা পড়ছে না। আবার অনেকে রোগী ভান বা ঢঙ করছে মনে করে তিরস্কার বা অবহেলা করেন। অনেকে আবার জ্বীন-ভূতের আছর মনে করে ওঝা-কবিরাজের শরণাপন্ন হন।

    মনে রাখতে হবে, কনভার্সন ডিজঅর্ডার জ্বীন-ভূতের আছর যেমন নয়, তেমনি এটি ভান-ও নয়। অবচেতন মনের দ্বন্দ্বের প্রেক্ষিতে জটিল মানসিক প্রক্রিয়ায় রোগীর অজান্তেই এসব উপসর্গ তৈরী হয়। রোগী যখন মানসিক চাপ বা দ্বন্দ্বের কথা মুখে প্রকাশ করতে পারেন না, তখন অবচেতন মন দ্বন্দ্বজনিত উদ্বেগ-উৎকন্ঠা প্রশমনের উপায় খুঁজে নেয়, প্রকাশ পায় শারীরিক উপসর্গ। পরীক্ষা, পারিবারিক অশান্তি, কর্মক্ষেত্রের সমস্যা, সামাজিক অশান্তি, চাওয়া-পাওয়ার অমিল প্রভৃতি দ্বন্দ্ব ও চাপ থেকে এ রোগ দেখা দিতে পারে।

    এ ধরণের উপসর্গ দেখা দিলে প্রথমে সার্বিক ইতিহাস জেনে ও যথাযথ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে আসলেই শারীরিক রোগের কারণে এ সমস্যা হচ্ছে কি না। যদি শারীরিক কোন কারণ না থাকে তাহলে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। রোগীকে যেমন অবহেলা-তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা যাবে না, তেমনি রোগের উপসর্গ নিয়ে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করা বা অস্থির হওয়াও যাবে না। উপসর্গের চেয়ে বরং নেপথ্যের দ্বন্দ্ব নিরসন বা চাপ কমানোর ব্যাপারে বেশী মনোযোগী হতে হবে। এ রোগের চিকিৎসায় সাইকোথেরাপীর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ওষুধ সেবনেরও প্রয়োজন হতে পারে।

    ডাঃ মুনতাসীর মারুফ

    মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ

    সহকারী অধ্যাপক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর