মানষিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে ফিজিওথেরাপি

    এ বছর বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবসের  প্রতিপাদ্য বিষয় ছিলো  মানষিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে ফিজিওথেরাপি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডাব্লিউ এইচও এর তথ্য মতে বিশ্বে প্রায় ৫৬ কোটি মানুষ মানষিক অসুস্থতায় আক্রান্ত তার মধ্যে ৩০ কোটি মানুষ বিন্নতায় এবং ২৬ কেটি মানুষ উদ্বেগ এ ভোগে এর এক তৃতীয়াংশ মানুষ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বসবাস করে। ওর্য়াল্ড কনফেডারেশন ফর ফিজিক্যাল থেরাপি (ডব্লিউসিপিটি) এর মতে ফিজিওথেরাপি শুধুমাত্র শারীরিক অসুস্থতার চিকিৎসার ক্ষেত্রে নয়, মানষিক অসুস্থতার  চিকিৎসার ক্ষেত্রে ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক নির্দেশীত কিছু থেরাপিউটিক এক্সারসাইজ বিশেষ করে বিসন্নতা ও উদ্বেগ জনীত মানসিক সমস্যায় গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে।

    তাছাড়াও যখন একজন ব্যাক্তি বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভোগেন তখন মানষিক চাপ বা উদ্বেগ বেড়ে যায়, যেমন একজন ব্যাক্তি হঠাৎ ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তার শরীরের একপাশ প্যারালাইসিসে পরিণত হলো তখন রোগীটির শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি শানষিক অসুস্থতাও ধেখা দেয় কারন যে কিনা দুইদিন আগেও সুস্থ স্বাাভাবিক জীবন যাপন করছিলেন কিন্তু বর্তমানে তার আক্রান্ত হাত-পায়ে কোন শক্তি পাচ্ছেনা, সে কি আবার আগের মত সুস্থ হতে পারবে ? এই ধরনের নানা রকম মানষিক উদ্বেগে ভূগে, তেমনীভাবে কিছু রোগী আছেন যারা দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন ব্যথা বেদনায় ভূগে থাকেন তখন তারাও মানষিক ভাবে ভেঙ্গে পড়ে যে তারা বোধহয় আর কখনও সুস্থ হবে না, এই ধরনের বিষন্নতায় ভূগে থাকে। এসব ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার মাধ্যমে রোগী যখন ধীরে ধীরে সুস্থ হতে থাকে শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানষিক ভাবে সুস্থতা লাভ করে তার ভিতর আসন্ন  ডিপ্রেশন বা বিষন্নতা দুর হয়, তাই ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

    সারা বিশ্বব্যাপি ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার ব্যাপক প্রসারতা লাভ করলেও বাংলাদেশে এই চিকিৎসার তেমন বিস্তার লাভ করেনি কারন সরকারী হাসপাতাল গুলোতে গ্রাজুয়েট বা বিপিটি পাশকৃত ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকদের পদ নেই, কিছু পদ থাকলেও নিয়োগ নেই, তাছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের সাবজেক্ট হওয়া স্বত্বেও এমবিবিএস ও বিডিএস এর ন্যায় বিপিটি (ব্যাচেলর অব ফিজিওথেরাপি) পাশকৃত ছাত্র-ছাত্রীদের স্বাস্থ্য বিসিএস দেওয়ার সুযোগ নেই। তেমনীভাবে নেই কোন রেগুলেটরী  অথোরিটি বা কাউন্সিল  যার ফলে যত্রতত্র গড়ে উঠা ফিজিওথেরাপি সেন্টারে অনেক রোগীই অপচিকিৎসার স্বীকার হচ্ছেন কারন এর বেশীরভাগ সেন্টারেই গ্রাজুয়েট বা ব্যাচেলর অব ফিজিওথেরাপি বা বিপিটি পাশকৃক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক নেই। ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখা যেখানে বহিঃবিশ্বে চিকিৎসা বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখার ন্যায় ফিজিওথেরাপিতেও রয়েছে বিভিন্ন সাব স্পেশালিটি রয়েছে যেমন - পেডিয়াট্রিক ফিজিওথেরাপি বিভাগ, নিউরোলজিক্যাল ফিজিওথেরাপি বিভাগ, অর্থোপেডিক বা মাস্কুলোস্কেলিটাল ফিজিওথেরাপি বিভাগ, কার্ডিওরেসপিরেটরী বা চেষ্ট ফিজিওথেরাপি বিভাগ, স্পোর্টস ফিজিওথেরাপি বিভাগ, গাইনি ফিজিওথেরাপি বিভাগ, জেরিয়েট্রিক ফিজিওথেরাপি বিভাগ ইত্যাদি যার ফলে স্ব স্ব বিভাগের মাস্টার্স অব ফিজিওথেরাপি বা এমপিটি পাশকৃত ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক যদি সঠিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে পারে তাহলে রোগীরা সঠিক ফিজিওথেরাপি  চিকিৎসা পাবে। তাই এ লেখার মাধ্যমে আজ যথাযথ কতৃপক্ষের কাছে আবেদন বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি কলেজের বাস্তবায়ন, বিশেষায়িত হাসপাতাল সহ প্রতিটি জেলা-উপজেলা হাসপাতালে বিপিটি ও এমপিটি ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকদের পদ সৃষ্টি ও বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি কাউন্সিল বাস্তবায়ন করে দেশের আপামর জনসাধারনের সঠিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন। ভবিষ্যতে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার নামে এদেশে অপচিকিৎসা বন্ধ হবে এবং মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে ফিজিওথেরাপি অগ্রনী ভূমিকা পালন করবে এমনটাই আশা করছি।

    ডা. এম ইয়াছিন আলী

    বাত, ব্যথা ও প্যারালাইসিস রোগে ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ

    কনসালটেন্ট ও বিভাগীয় প্রধান - ফিজিওথেরাপি বিভাগ

    প্রো-অ্যাকটিভ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল