গনোরিয়া রোগে মুখের আলসার

    সারাবিশ্বে সিফিলিসের চেয়ে গনোরিয়া রোগ প্রায় ১৫ গুন বেশি পরিলক্ষিত হয় যেখানে অন্যান্য যৌন রোগের ক্ষেত্রে এ হার তুলনামূলকভাবে কম। নাইসেরিয়া গনোরি নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা গনোরিয়া রোগ বিস্তার লাভ করে। মুখের লালা গনোরিয়া রোগের ব্যাকটেরিয়ার বংশ বৃদ্ধি কমিয়ে দিতে সাহায্য করে। তবে মুখের লালা নিঃসরণ কমে গেলে অথবা শুল্ক মুখ বা জেরোসটোমিয়ার ক্ষেত্রে মুখের সংক্রমণ বেশি দেখা যেতে পারে। ওরোফ্যারিংস সচরাচর আক্রান্ত স্থানের অন্যতম। সাধারণত পুরুষ হোমোসেক্সুয়ালদের ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি সত্য । টনসিলগুলো লাল বর্ণ ধারণ করে এবং ফুলে যায়। টনসিলগুলোর উপরিভাগে বাদামি বর্ণের প্রলেপ বা আবরণ দেখা যেতে পারে। আঞ্চলিক লসিক্যগ্রন্থি বা লিস্ফনোডগুলো বড় হয়ে যায়। ওরাল মিউকোসা বা মুখ গহ্বরের ত্বকঝিল্লির আক্রান্ত অন্যান্য স্থানে প্রদাহ, উপরিভাগে ঘাঁ এবং ইডিমা দেখা যেতে পারে। আক্রান্ত প্রদাহজনিত মিউকোসা হলুদাভ অথবা ধূসর বর্ণের এক্সুডেট দ্বারা আচ্ছাদিত থাকতে পারে। যখন এ আচ্ছাদন অপসারিত হয়, তখন উপরিভাগে রক্তাভ মিউকোসা দেখতে পাওয়া যায়। মারাত্মক ক্ষেত্রে ব্যথাযুক্ত ওরাল এবং ফ্যারিনজিয়াল আলসার দেখা যায়। সারভাইকাল নিস্ফনোডগুলো বড় হয়ে যায়। রোগীর গায়ে জ্বর থাকতে পারে এবং শরীর সাধারণত দুর্বল থাকে। আবার কোনো কোনো সময় গনোরিয়া রোগে মুখে রোগের কোন লক্ষণ দেখা যায় না। যখন তীব্র স্টোমাটাইটিস বা ফ্যারিনজাইটিস সংক্রমণ দেখা যায়, তখন গনোকক্কাল স্টোমাইটিস রোগ নির্ণয়ে বিবেচনায় আনতে হবে।

     

    বিবেচনার বিষয়গুলো -

    ক) অন্যান্য মুখের রোগ বা লক্ষণ থেকে স্বতন্ত্র কোন লক্ষণ।

    খ) ব্যথামুক্ত মুখের আলসার অথবা তীব্র মুখের প্রদাহ কিন্তু প্রদাহের লক্ষন দুর্বলভাবে নির্নিত।

    গ) প্রাপ্তবয়স্ক কোনো রোগী যিনি সম্প্রতি ওরোজেনিটাল বা ওরোঅ্যানাল যৌনতায় আবদ্ধ ছিলেন।

     

    রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাঃ

    গনোরিয়াজনিত মুখের আলসারের ক্ষেত্রে থ্রোট সোয়াব পরীক্ষা করা উচিত। নিশ্চিত হওয়ার জন্য কালচার করা যেতে পারে, নাইসেরিয়া গনোরি ব্যাকটেরিয়া নির্ণয় করার জন্য যেহেতু সেপ্রোফাইটিক নাইসেরিয়া জীবাণু মুখে বেশি পরিলক্ষিত হয়। ওরোফ্যারিনজিয়াল সংক্রমণে শতকরা ৯৭ ভাগ ক্ষেত্রে পেনিসিলিন জাতীয় ওষুধ কার্রল গনোকক্কাল সংক্রমণ –

    কফ বা হাঁচির মাধ্যমে গনোকক্কাল সংক্রমণ বিস্তার লাভ করার প্রমাণ নেই, যদি ক্রস ইনফেবশন বা সংক্রমণ রোধের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পূর্ব সতর্কতা নেয়া হলে দাঁতের চিকিৎসা করার সময় বা আলসার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সময় রোগ বিস্তার লাভ করার সুযোগ কম। রোগী দেখার সময় এবং ইনজেকশন দেয়ার সময় ডেন্টাল সার্জনদের সতর্ক থাকতে হবে। গনোকক্কাল আলসার যথাযথভাবে চিকিৎসা না হলে ধীরে ধীরে তা মারাত্মক রূপ ধারণ করতে পারে। তাই মুখের কোন আলসার বা ঘা না সারলে দ্রুত একজন অভিজ্ঞ ডেন্টাল সার্জনের পরামার্শ গ্রহণ করতে হবে। অযথা ভিটামিন বা হাতুড়ে কোনো ডাক্তারের অপচিকিৎসা গ্রহণ করে সময় নষ্ট না করাই ভালো। অনেক সময় মুখের আলসারের বিলম্বিত চিকিৎসা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে। মুখের অনেক আলসার বা ঘাঁ ক্যান্সারের পূর্বাবস্থা হিসেবে গণ্য করা হয়। 

     

    ডা. মোঃ ফারুক হোসেন

    মুখ ও দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ