বাবার কারনে যে শিশু অটিস্টিক হয়

    মানুষসহ সব প্রাণীর একটি প্রধান চাহিদা সন্তান জন্ম দেয়া। সন্তান জন্ম দেওয়ার মাধ্যমেই মানুষ পৃথিবীতে তাদের বংশধরকে হাজার হাজার বছর ধরে বাঁচিয়ে রেখেছে। সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য প্রয়োজন নারী-পুরুষের এক মেলবন্ধন। সামাজিক প্রথা বিয়ের মাধ্যমেই সাধারণত নারী-পুরুষের এ বন্ধন বৈধতা পায়। বিয়ের পরই স্বামী-স্ত্রীর প্রধান চাহিদা সন্তান জন্ম দেওয়া। 

    সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশিরভাগ মানুষেরই কোনো সমস্যা হয় না। তবে কোনো কোনো মানুষের ক্ষেত্রে দেখা যায়, তাদের নানা সমস্যা হচ্ছে। আবার অনেকেই সুস্থ-সবল শিশু জন্ম দেওয়ার পরিবর্তে অসুস্থ শিশু জন্ম দিচ্ছেন। আগে ধারণা করা হতো, বেশি বয়সে মা হলে সন্তানের শারীরিক নানা সমস্যা হতে পারে; কিন্তু গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে, শুধু মা নয় বরং বেশি বয়সে বাবা হলেও এর প্রভাব সন্তানের ওপর বেশি পড়ে। বিয়ের পর যারা সন্তান নিতে চাচ্ছেন তাদের জেনে রাখা ভালো, বেশি বয়সে বাবা হওয়ার অনেক ঝুঁকি রয়েছে। কারণ বাবার বয়স সন্তানের বংশগত জটিলতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। শিশুর স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, মায়ের চেয়ে বাবার বয়সই প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। 

    অসুস্থ-অস্বাভাবিক সন্তান জন্ম হলে বেশিরভাগ সমাজ ব্যবস্থা মায়েদেরই দোষ দিয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি গবেষণায় দেখা যায়, অটিজম সিজোফ্রেনিয়া কিংবা মানসিক ও শারীরিক বিকলাঙ্গতা নিয়ে যেসব শিশু জন্ম নিচ্ছে, এর একটি প্রধান কারণ বেশি বয়সে বাবা হওয়া। অর্থাৎ বাবা হিসেবে বেশি বয়সে সন্তান জন্ম দিতে চাইলে আগত শিশুর মানসিক ও শারীরিক সমস্যা এবং জটিলতা থাকার সম্ভাবনার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। গবেষণায় দেখা যায়, ২০ বছরের বেশি বয়সের বাবার সন্তানদের ২৫টির মতো জটিলতার সম্ভাবনা দেখা যায়। ৪০ বছরের বাবার সন্তানদের সে সম্ভাবনা থাকে ৬৫টি জটিলতার। অর্থাৎ বাবার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুর জটিলতার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। মোটকথা, শিশুর শারীরিক ও মানসিক জটিলতার ৯৭ শতাংশ কারণ বেশি বয়সে বাবা হওয়া বা সন্তান জন্ম দেওয়া। 
    গবেষণায় আরও দেখা যায়, ১৯৭০ সাল থেকে উন্নত দেশগুলোয় শিল্পবিপ্লব শুরু হয় আর এ শিল্পবিপ্লবের কারণে পুরুষ বেশি বয়সে বাবা হন আর এতে উন্নত বিশ্বে অটিজম ও অন্যান্য মানসিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশু জন্মানোর সংখ্যাও অনেক বেড়ে গেছে। তাই বলা যায়, সুস্থ-স্বাভাকিক শিশু জন্ম দিতে চাইলে অন্তত প্রথম সন্তানটি সর্বোচ্চ ৩৫ বছরের মধ্যে নতুবা বাবা হিসেবে আপনাকে ঝুঁকির মধ্যে থেকে একটা অজানা শঙ্কায় থাকতে হবে।

    ডা. মহসীন কবির 
    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, লেখক ও গবেষক
    কো-অর্ডিনেটর,হেলথবিডি২৪.কম