পোষা প্রাণী থেকে যে রোগ ছড়ায়

    এলার্জি, এ্যাজমা ও পলিনোসিস-এর মত রোগগুলোতে আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে কুকুর ও বিড়ালের মত পোষা প্রাণী । বিড়ালের এলারজেনের মূল উৎস হচ্ছে তাদের ত্বকে অবস্থিত এক প্রকার তৈলাক্ত গ্রন্থি (সেবাসিয়াম গ্লান্ড) । এদের শরীর থেকে সব সময় এজাতীয় এলারজেন নিঃসরিত হয় এবং চারদিক ছড়িয়ে পড়ে । অন্যদিকে কুকুরের এলারজেনের মূল উৎস হচ্ছে তাদের মুখ হতে নিঃসুত লালা । এক্ষেত্রে তাদের লোমের ভূমিকা তুলানমূলকভাবে কম । যদিও উভয়েই এলার্জি সৃষ্টিতে সক্ষম । সুতরাং সকল প্রজাতির কুকুর এলার্জি সৃষ্টিতে সক্ষম যদিও কিছু প্রজাতির কুকুর তুলনামূলকভাবে কম পরিমাণে লোম ও লালা নিঃসরণ করে সুতরাং এসব প্রজাতির কুকুরের দ্বারা এলার্জি সৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম ।
    কুকুর এবং বিড়াল ছাড়াও অন্যান্য প্রাণী যাদের কারণে এলার্জি হতে পারে তাদের মধ্যে ঘোড়া, ইঁদুর, খরগোশ, গিনিপিগ এবং পাখি অন্যতম । এসব প্রাণীর এলারজেন দ্বারা পলিনোসিস ও এ্যাজমার মত রোগগুলো হতে পারে।

    পোষা প্রাণী সৃষ্ট এলার্জি প্রতিরোধে করণীয়ঃ পোষা প্রাণী হতে সৃষ্ট এলার্জি প্রতিরোধে সহজে সম্পাদনযোগ্য কিছু পদক্ষেপ, যা কিনা বেশ কার্যকরী হিসাবে প্রমানিত হয়েছে, সেগুলো নিম্মরূপ:
    ১. বাড়িতে কোন প্রকার লোমশ প্রাণী না আনা
    পোষা প্রাণীর জন্য নতুন আবাস্থল তৈরি করা
    ২. ধুমপান পরিহার করা

    কষ্টসাধ্য এবং যথেষ্ট কার্যকর নয় এমন পদক্ষেকগুলো নিম্মরূপ:
    ১. পোষা প্রাণীর চলাফেরা একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা।
    ২. পোষা প্রাণীকে রোগীর ঘর থেকে দূরে সরিয়ে রাখা ।
    ৩. উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এয়ার-ক্লিনার ব্যবহার করা
    ৪. পোষা প্রাণীকে নিয়মিত গোসল করানো
    ৫. যদি কোন মতেই এলার্জির জন্য দায়ী প্রাণীর সংস্পর্শ পরিহার করা সম্ভব না হয় তবে ইমিউনোথেরাপির শরনাপন্ন হওয়া যেতে পারে ।
    তবে এ ব্যাপারে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নির্দেশমত পদক্ষেপ নিতে হবে।

     

    অধ্যাপক ডাঃ গোবিন্দ চন্দ্র দাস

    সাবেক অধ্যাপক,অ্যালর্জি বিভাগ
    সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
    দি অ্যালার্জি এন্ড অ্যাজমা সেন্টার