কৃত্রিম চোখ প্রতিস্থাপন

    যাদের চোখ নেই ও চক্ষুকোটর ফাকা থাকে তারা সময়মতো সঠিক মাপের কৃত্রিম চক্ষু ব্যবহার না করার ফলে চক্ষুকোটরের চারপাশের মাংসপেশি দ্বারা সংকুচিত হয়ে যায়। তাই চোখ হারানোর সঙ্গে সঙ্গে যত তাড়াতাড়ি  সম্ভব একটি সঠিক মাপের ও রঙের আসল চেখের মতো দেখতে (অন্য কেউ বুঝতে পারবে না এমন) একটি কৃত্রিম চোখ প্রতিস্থাপন করা উচিত।

    সর্বসাধারণের  কথা চিন্তা করে রেডিমেড  কৃত্রিম চক্ষু বা পাথরের চোখ তৈরী করা হয়। কিন্তু তা আলাদা আলাদা রোগীর চক্ষুকোটরের মাপমতো হয় না এবং কৃত্রিম চোখটি ছোট-বড় হয়ে যায়, যা প্রতিস্থাপন করলে কৃত্রিমই মনে হয়। কিন্তু একটি কাস্টম মেইড কৃত্রিম চোখ রোগীর চক্ষুকোটরের মাপ নিয়ে তৈরী হয়, ফলে তা পাশের চোখের সমান। স্বাভাবিক নড়াচড়া করতে সক্ষম এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন।

    প্রতিটি ব্যক্তির আইরিশ/চোখের মনির রং এবং সাইজ ভিন্ন, যা রেডিমেড কৃত্রিম চক্ষুতে হয় না। কিন্তু কাস্টম মেইড কৃত্রিম চক্ষু ব্যক্তির আসল চোখের মণির রঙ ও সায়সম্পূর্ন ভাবে মিলিয়ে তৈরী করা হয়। কাস্টম মেইড কৃত্রিম চক্ষু স্কে¬রা বা সাদা অংশের রং পাশের চোখের সঙ্গে মিল রেখে তৈরী করা হয়, যা ব্যক্তিবিশেষে সাদা, নীলাভ সাদা, লালাভ সাদা, বাদামি বা হলুদাভ হয়ে থাকে। রেডিমেড কৃত্রিম চক্ষু সাধারনত সাদাই হয়।
    কাস্টম মেড কৃত্রিম চক্ষুতে ক্যাপেলারি বা রক্তজালিকা বিন্যাস পাশের চোখের সঙ্গে মিল রেখে প্রতিস্থাপন করা হয়, যা রেডিমেড চক্ষুতে তেমন পাওয়া যায় না। বর্তমানে বাংলাদেশে সর্বাধুনিক কৃত্রিম চক্ষু প্রতিস্থাপনা বিষয়ে যেসব চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছে তা হলো -

    ১.    কাস্টম মেড অকিউলার প্রোসথেসিস কৃত্রিম চক্ষু প্রতিস্থাপন: বর্তমানে বাংলাদেশে সর্বাধুনিক মানের যে কৃত্রিম চক্ষু পাওয়অ যায় তা শুধু নির্দিষ্ট রোগীর চক্ষুকোঠরের মাপ নিয়ে আসল চোখের সমান, একই রঙ্রে ও সাইজের আইরিশ বা চোখেল মণি, রক্তজালিকা বিন্যাসসহ স্কে¬রা বা চোখের সাদা অংশের সঙ্গের মিল রেখে তৈরী করা হয়। এটা স্বভাবিক, নড়াচড়া করতে সক্ষম ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন। জার্মানি অ্যাক্রিলিক ফাইবার দ্বারা তৈরী বলে এটি হালকা ও উন্নতমানের।
    ২.    অরবিটাল প্রোসথেসিস (কৃত্রিম  চক্ষু, চোখের পাতা, চোখের পাপড়ি প্রতিস্থাপন): দূর্ঘটনা বা ক্যানসারের জন্য চোখ, চোখের পাতা, চোখের পাপড়ি, আইভ্রু অপারেশন (এক্সেনটারেশন) করে ফেলে দিতে হয়। এসব ক্ষেত্রে কৃত্রমভাবে রোগীর ত্বকের রঙের সঙ্গে মিল রেখে (সিলিকন বেজড) চোখ, চোখের পাতা, পাপড়ি ও আইভ্রু প্রতিস্থাপন করা হয়।
    ৩.     রেলিনেবল চিলড্রেন অকিউলার প্রোসথেসিস: শিশু রোগীদের ক্ষেত্রে তাদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চক্ষুকোটরও বড় হয়। তাই শিশুদের কৃত্রিম চক্ষু এমভাবে তৈরী, যা ক্রম বর্ধমান চক্ষুকোটরের মাপমতে নতুন চক্ষু না বানিয়ে বৃদ্ধি করা যায় বছরান্তে।


    অধ্যাপক (ডা:) মোঃ সাইফুল ইসলাম
    কৃত্রিম চক্ষুবিশেষজ্ঞ  ও বিভাগীয় প্রধান
    প্রসথোডান্টিক্স বিভাগ
    ইউনিভার্সিটি ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা