চুলের চিকিৎসায় পিআরপি

    পিআরপি হলো চিকিৎসাবিজ্ঞানে একটি আধুনিক ও অন্যতম চিকিৎসা পদ্ধতি। রিজেনারেটিভ মেডিসিনের একটি বিষয় হলো পিআরপি। এটির পুরো অর্থ হলো প্ল্যাটিলেট রিচ প্লাজমা। পিআরপি বা প্ল্যাটিলেট রিচ প্লাজমা থেরাপি হচ্ছে মাথার চামড়ায় বিশেষ প্রোটিন সরবরাহের একটি বিশেষ পদ্ধতি। এ পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে আপনার শরীর থেকেই রক্ত নিয়ে তা থেকে প্ল্যাটিলেট (অনুচক্রিকা) ও প্লাজমা (রক্তের বর্ণহীন সাদা অংশ) আলাদা করা হয়ে থাকে। এ উপাদানে থাকে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, যা প্রাকৃতিকভাবে আপনার চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে থাকে। আবার কিছু রয়েছে থেরাপি পর্যায়ে, প্রোটিনসমৃদ্ধ থেরাপি। এ প্রোটিনসমৃদ্ধ প্লাজমা দিয়েও চুলের টাক পড়া প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়ে থাকে।


    পিআরপি একটি ইনজেকশন ছাড়া আর কিছু নয়। যখন ওষুধ দিয়ে ফল পাওয়া যায় না, তখন এটির সহযোগী হিসেবে চিকিৎসকরা এ ইনজেকশন দিয়ে থাকেন। সাধারণত যিনি পিআরপি চিকিৎসা নেন, তিনি ছয় মাসের মধ্যে বুঝতে পারেন ফল ভালো। এতে চুলপড়া রোধ করা সম্ভব হয়ে থাকে। যেমন Ñ যার ২২ বছর বয়স থেকে চুল পড়তে শুরু করছে, সে ২৮ বছরে এসে চিকিৎসা শুরু করে, তা হলে বিশেষ ফল আশা করা যায় না। এ জন্য ২২ বছর বয়সেই তার পিআরপি চিকিৎসা শুরু করা উচিত। চুল পড়ে যাওয়ার শুরুতে চিকিৎসা নেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ। পিআরপি চিকিৎসা কতখানি উপকারী, তা নির্ভর করে থাকে রোগীর মাথার চামড়ার ভেতরে চুল উৎপাদনকারী কোষ কতটুকু আছে বা আদৌ আছে কিনা, তার ওপর। ভেতরে জীবিত কোষ না থাকলে আপনি এ থেকে বিশেষ ফল পাবেন না। চুল উৎপাদনকারী কোষ যথেষ্ট পরিমাণে জীবিত থাকলে তবেই আপনি চার সপ্তাহ থেকেই ফল পাওয়া শুরু করবেন।

    আপনার নিজের শরীরের রক্ত ব্যবহৃত হয় বলে পিআরপি চিকিৎসায় তেমন কোনো সাইড অ্যাফেক্ট হয় না। শারীরিক অসুস্থতা ও হরমোনের অসামঞ্জস্যতা থাকলে সেই অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে। এ জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

     

    ডা. এসএম বখতিয়ার কামাল
    সহকারী অধ্যাপক
    চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগ
    ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল