যদি হয় মন খারাপ


মানুষ মানেই আবেগপ্রবণ। এ আবেগের জন্ম হয় মনে। মানুষের মনে যে কত বিচিত্র বৈচিত্র্য খেলা করে, তা মানুষ নিজেও জানে না। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, আমাদের মনের আবেগ তৈরি হয় মস্তিষ্কে। অনেকেই ভেবে থাকেন, বুকের ভেতর যে হৃদয় থাকে, সেখানেই মনের বাস। আসলে বুকে আমাদের হার্টের অবস্থান আর আবেগের সঙ্গে হৃদস্পন্দন জড়িত। তাই আবেগের উপলদ্ধিটা বুকের ভেতরেই অনুভূত হয়। তবে আবেগজনিত কারণে বুকের ব্যথা মোটেও হেলাফেলার জিনিস নয়। এ ব্যথা থেকেই হতে পারে হার্ট অ্যাটাক। সাধারণত আবেগজনিত হৃদয় ভাঙার একটি বড় কারণ ভালোবাসা। ভালোবাসা, বিশেষ করে প্রেমের ক্ষেত্রে অতি আবেগের কষ্টে মানুষের মন যখন ভেঙে যায় তখন সে কষ্ট পায়। সে ভাবে, তার বেঁচে কী লাভ। কিন্তু চিকিৎসকরা এ রোমান্টিকতার ঘোর বিরোধী, বিশেষ করে হার্টের চিকিৎসকরা। এ কারণে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন, কেউ যদি মনে কষ্ট পুষে রাখে এবং কোনো বিষয়ে আবেগে অতিরিক্ত চিন্তায় পড়ে যায়, তাহলে তার হার্টে সমস্যা হতে পারে। এমনকি এটি থেকে হার্ট অ্যাটাক পর্যন্তও হতে পারে। আর মানসিক রোগের চিকিৎসকরা বরাবরই বলে থাকেন, মন কিন্তু হেলাফেলার জিনিস নয়। মনের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে জানতে হবে বা শিখতে হবে। তাই আসুন জেনে নিই মন ভালো রাখার বা ভালো করার কিছু কৌশল -

১. মন ভালো রাখতে চাইলে হাসতে হবে। কারণ থাক বা না থাক, মন খারাপ থাকলে প্রাণ খুলে হাসার চেষ্টা করুন। হাসি মস্তিষ্কে এন্ডরফিনের মাত্রা বাড়ায়, যা মানসিক শান্তি এনে দেয়।

২. নিজের জীবদ্দশায় ঠিক কী কী করতে চান, তার একটি লিস্ট তৈরি করুন। এতে আপনার লক্ষ্য স্থির হবে। মনসংযোগ বাড়বে এবং আপনি নিজেকে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী বলে মনে করবেন।

৩. ডায়েরি লেখার অভ্যাস থাকলে দিনের ঘটনাগুলো লিখে রাখুন। মন খারাপ হলে ডায়েরির পাতার মজার ঘটনাগুলোর ওপর একবার চোখ       বুলিয়ে নিন; দেখবেন এক নিমেষে মন ভালো হয়ে যাবে।

৪. মন ভালো করতে চাইলে নিজের জন্য রান্না করুন। যাদের রান্নার শখ আছে, তারা নতুন কোনো রেসিপি তৈরি করতে পারেন।

৫. একজন খুব ভালো বন্ধু তৈরি করুন। তার কাছে মনের কষ্ট বা গোপন কথাগুলো খুলে বলুন।

 

ডা. মহসীন কবির

জনস্বাস্থ্যবিষয়ক লেখক ও গবেষক

www.healthbd24.com

অ্যাম্বুলেন্স হার্বাল ও আয়ুর্বেদিক হোমিওপ্যাথি রুপ চর্চা