বিবাহবিচ্ছেদে হতে পারে হৃদরোগ

    ব্যবধান, বিচ্ছেদ ও মুক্তি, এ তিনটি শব্দ আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িত। তবে বিচ্ছেদের কারণে কারও মুক্তি মিললেও আবার অনেক ক্ষেত্রেই এ বিচ্ছেদ জীবনের পরিসমাপ্তি ডেকে এনে জীবন থেকে পুরোপুরি মুক্তি দিয়ে দেয়। বর্তমানে আমাদের সামাজিক ব্যবস্থায় বাড়ছে সম্পর্কের ভাঙন। বিশেষ করে বিবাহবিচ্ছেদ বেড়ে গেছে আকস্মিকভাবে। যারা নিজেদের সম্পর্কে খাপ খাওয়াতে পারছেন না, তারা হুট করেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন সম্পর্কের ইতি টেনে নিজের মতো বাঁচবেন বলে। একলা চলব কিংবা নিজের জীবনটাকে শুধু নিজেই উপভোগ করব। আসলে বাস্তবতা কি তাই? এ বিচ্ছেদ হওয়া মানুষদের নিয়ে কী বলে চিকিৎসাবিজ্ঞান। গবেষকদের মতে, বিবাহবিচ্ছেদের পর বেশিরভাগ মানুষই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। অনেকে নিজেকে চেনা রুটিন থেকে আলাদা করে ধীরে ধীরে অন্য এক জগতে বিচরণ করতে শুরু করে আর নিজের অস্তিত্ব চুরমার হওয়ায় ধীরে ধীরে সে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায়। এ তো হলো কঠিন সমস্যাগুলোর কথা। অন্যদিকে চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, বিবাহবিচ্ছেদ ও সঙ্গীহীনতা অনিদ্রার একটি অন্যতম কারণ। আর রাতের পর রাত অনিদ্রার কারণে একসময় হৃৎপি-সহ মস্তিষ্কের নানা রোগ হয়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক বিচ্ছেদপ্রাপ্ত ১৩৮ জনের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ওপর একটি গবেষণা চালান। গবেষণায় অংশগ্রহণ করা মানুষগুলো সবাই চার মাস আগে তাদের সঙ্গীদের থেকে বিচ্ছেদ বা আলাদা হয়েছে। দীর্ঘ সাত মাস ধরে তাদের স্বাভাবিক ঘুমের ওপর বিশেষ পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। তাদের রক্তচাপও মাপা হয়েছে নিয়মিত; কিন্তু এতে দেখা যায়, তাদের সবাই কোনো না কোনোভাবে ইনসোমনিয়া বা না ঘুমানো রোগ ও হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। অন্যদিকে যারা পরিবার বা সঙ্গী নিয়ে বিচ্ছেদের চিন্তা করেননি বা যারা বিবাহবিচ্ছেদে বিশ্বাসী না হয়ে একসঙ্গে রয়েছেন এসব নারী-পুরুষ ইনসোমনিয়া বা হৃদরোগের কম ঝুঁকিতে রয়েছেন।

     

    ডা. মহসীন কবির

    জনস্বাস্থ্য বিষয়ক লেখক ও গবেষক

    www.healthbd24.com