ডায়াবেটিসের আগাম সংকেত

    অনেকেই ডায়াবেটিসকে সকল রোগের জননী বলে থাকে। কেউ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে খাদ্যাভাস ও দৈনন্দিন জীবন যাপনে পরিবর্তন আনা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই জীবনের  সাধ-আহ্লাদ বিসর্জন দিয়ে ডায়াবেটিস রোগীদের একটা কঠিন ব্রত নিয়ে জীবন পাড় করতে হয়। তবে এ রোগ যাঁদের দেহে এখনো দেখা দেয়নি, তাঁদের জন্য সুখবর হলো-রক্তের কয়েকটি উপাদানের পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁরা নিশ্চিত হতে পারবেন দেহে ডায়াবেটিসের লক্ষণ আছে কি না। আর তা আক্রান্ত হওয়ার ১০ বছর আগেই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।

    যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকরা ১৮৯ ব্যক্তির ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এ তথ্য পেয়েছেন। আর এ বিষয়টি নিয়ে ন্যাচার মেডিসিন সাময়িকীতে প্রতিবেদন  প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়,কারো রক্তের ভেতর থাকা পাঁচ ধরনের অ্যামাইনো এসিডের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলে দেওয়া সম্ভব তিনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়েছেন নাকি হবেন, আর হলে কত দিন পরে এর তীব্রতা বাড়বে। অ্যামাইনো এসিডগুলো হলো-আইসোলিউসিন, লিউসিন, ভ্যালাইন, টাইরোসিন ও ফিলাইলালাইন। এ উপাদানগুলোর মাত্রা বৃদ্ধি পেলেই ডায়াবেটিস আক্রান্ত হওয়ার দিকে যায় মানুষ। গবেষণায় নেতৃত্বদানকারী চিকিৎসক থমাস অং বলেন, এ পরীক্ষার মাধ্যমে অন্তত ১০ বছর আগেই বলে দেওয়া সম্ভব-কেউ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছে কি হচ্ছে না। এ জন্য পরীক্ষাগুলো তরুন বয়সেই করিয়ে ফেলার আহ্বান জানান তিনি। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, বয়স বেড়ে যাওয়ার পর ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়লে তা থেকে মুক্তি পাওয়া অনেকটাই কঠিন।তবে যদি তরুন বয়সে লক্ষণগুলো টের পাওয়া যায়, তাহলে সে অনুযায়ী চিকিৎসা ও নিয়মনীতি মেনে চললে ডায়াবেটিসের আক্রমণ থেকে মুক্তি পাওয়া সহজতর হয়।

     

    ডা.মহসীন কবির

    জনস্বাস্থ্য বিষয়ক লেখক ও গবেষক

    ইনচার্জ, ইনস্টিটিউট অব জেরিয়েট্রিক মেডিসিন

    বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ, ঢাকা