ফোবিয়া বা ভয়রোগ

    নির্দিষ্ট বস্তু, বিষয় বা পরিস্থিতির জন্য নির্দিষ্ট মাত্রার ভয় সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য। কিন্তু এই ভয়-ই যদি স্বাভাবিকতার সীমা অতিক্রম করে তীব্র আকার ধারণ করে অথবা ভয়টি হয় অহেতুক, তখন তা রোগ হিসেবে পরিগণিত হয়। একে ফোবিয়া বা অহেতুক ভীতি রোগ বলা হয়। অনেকে বিভিন্ন প্রাণী যেমন, কুকুর, সাপ, তেলাপোকা, মাকড়সা প্রভৃতিতে অতিরিক্ত বা অহেতুক ভয় পান। কারো ভীতি জন্মায় বিভিন্ন প্রাকৃতিক পরিবেশে; যেমন, উচ্চতা, ঝড়, সমুদ্র প্রভৃতি। কেউ আবার রক্ত, ক্ষত, ইনজেকশন প্রভৃতি চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিষয়ে ভয় পান। বিভিন্ন পরিস্থিতিতে যেমন, বিমানে চড়তে, লিফটে উঠতে, বদ্ধ স্থানে কারো অহেতুক ভীতি থাকতে পারে।

    সাধারণ ভয়ে ভীত ব্যক্তির দৈনন্দিন কাজকর্ম তেমন ব্যাহত হয় না, কিন্তু ফোবিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির অহেতুক ভীতির কারণে তার ব্যক্তিজীবন, শিক্ষাজীবন বা কর্মজীবনে ব্যাঘাত ঘটে। যে বিষয় বা পরিস্থিতি ভয়ের সৃষ্টি করে, ব্যক্তি তা এড়িয়ে চলেন অথবা তার মুখোমুখি হলে অতিরিক্ত উদ্বেগের শারীরিক ও মানসিক লক্ষণ দেখা দেয়। যেমন, হাত-পা কাঁপা, মুখ শুকিয়ে আসা, বুক ধড়ফড় করা, শ্বাসকষ্ট, দম বন্ধ ভাব, বুকের মাঝে চাপ অনুভব, ব্যথা, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, ক্লান্তি, মাথা ঝিম ঝিম করা, ঘুরানো বা ব্যথা, ঘুমের সমস্যা, শরীর টান টান হয়ে ওঠা, পেটের মাঝে অস্বস্তিবোধ, ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া ইত্যাদি। অনেকে সামাজিক পরিবেশ যেমন, জন্মদিন বা বিয়ের অনুষ্ঠান যেখানে অনেক লোক সমাগম হয়, সেখানে গেলে এ ধরণের সমস্যায় আক্রান্ত হন।

    এ রোগের চিকিৎসা দেয়া হয় বিভিন্ন ধরণের সাইকোথেরাপী, বিশেষতঃ বিহেভিয়ার থেরাপীর মাধ্যমে। এই থেরাপীতে ব্যক্তির অনাকাঙ্খিত বা অস্বাভাবিক আচরণকে ধীরে ধীরে চর্চা ও কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে আকাঙ্খিত আচরণে পরিবর্তিত করা হয়। এক্ষেত্রে, মনে রাখতে হবে, এই থেরাপীতে নিয়মিত সাইকোথেরাপীস্টের সাথে সেশন করতে হবে। এবং সাইকোথেরাপীস্টের উপদেশমতো বাড়িতেও এর চর্চা করতে হবে। এছাড়াও অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যে কগনিটিভ থেরাপীর মাধ্যমে কোন বিষয় বা পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্যক্তির নেতিবাচক ধারণাকে পরিবর্তন করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে উদ্বেগের শারীরিক-মানসিক উপসর্গ কমাতে ওষুধ ব্যবহারেরও প্রয়োজন হতে পারে।


    ডাঃ মুনতাসীর মারুফ
    মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ
    জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট,ঢাকা