অটিস্টিক শিশুর জন্য সহজ ভাষা

    অটিস্টিক শিশুরা সামাজিক সম্পর্ক তৈরী করতে এবং সামাজিক পরিস্থিতিতে সঠিক আচরণ করতে ব্যর্থ হয়। সামাজিক মিথস্ক্রিয়ায় তাকে সহায়তা করতে হবে। অটিস্টিক শিশু অনেক সময় অন্যের আবেগ বা শারীরিক অভিব্যক্তি বুঝতে ব্যর্থ হয়। সুতরাং, তাকে নির্দিষ্ট সামাজিক পরিস্থিতিতে প্রত্যাশিত আচরণ শিক্ষা দিতে হবে নিয়মিত। খেলার মাঝে সঙ্গীকে পড়ে যেতে দেখে শিশু হেসে উঠলে তার মানে এই নয় যে, সে এটাকে মজার বিষয় বলে মনে করছে। হতে পারে, সে জানেই না এই সময়ে তার কি ধরণের আচরণ করা উচিত। শিশুকে তা শেখাতে হবে।
    অটিস্টিক শিশুর সংবেদী ক্ষমতা অনেক সময় ভাল থাকে না। সাধারণ একটি কাজ, যেমন, দোকানে বা বাজারে যাওয়া - যেখানে শত শত মানুষ সেখানে একসাথে কথা বলছে, লাউডস্পিকার বাজছে জোর শব্দে - তার কাছে নরকতুল্য অভিজ্ঞতা হতে পারে, কেননা সে হয়তো অতি-শ্রবণ সংবেদী। তীব্র ঘ্রাণ সংবেদী হলে অল্প কটু গন্ধও সে সহ্য করতে পারে না। এ কারণে সে অস্থির ও উত্তেজিত আচরণ করতে পারে, যদিও আচরণের প্রকৃত কারণ ব্যক্ত করতে পারে না। এ ব্যাপারে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।
    অটিস্টিক শিশুদের চিন্তা সীমাবদ্ধ হতে পারে। তার মানে, তারা অনেক সময় কথার আক্ষরিক অর্থটাই বোঝে। এর ভেতরকার অন্য অর্থ থাকলেও তা ধরতে পারি না। অটিস্টিক শিশুদের সাথে বাগধারা, প্রবচন, প্রহসন, দ্ব্যর্থবোধক শব্দ ব্যবহার না করে সরাসরি সহজ ভাষায় কথা বলাই ভালো।
    অন্যের কথা বোঝা ও নিজের মনের ভাব প্রকাশ করা - দুটোই অটিস্টিক শিশুর জন্য কঠিন। সে কথা শুনতে পায় কিন্তু যদি সরাসরি তাকে না বলা হয় অথবা পুরোটা না বলা হয়, তাহলে তার অন্তর্নিহিত অর্থ বুঝতে অনেক সময় সমস্যা হয়। পাশের কক্ষ থেকে যখন তাকে ডাক দেয়া হয়, সে হয়তো শুনতে পায় শুধু ডাকটাই। কিন্তু তাকে কি করতে হবে, শুধু ‘ডাক’ থেকে সে তা বুঝতে পারি না। যে আচরণ তার কাছ থেকে চাওয়া হচ্ছে, তাকে তা সরাসরি বলতে হবে। তাতে নির্দেশ মানা তার জন্য সহজতর হয়।


    ডাঃ মুনতাসীর মারুফ
    মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ
    জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য হাসপাতাল