শীতকালে ঠান্ডা লাগা সমস্যা ও প্রতিকার

    শীতকালে ঠান্ডা লাগা বা সর্দি অতিসাধারণ অথচ খুবই ছোঁয়াচে একটি রোগ। বিভিন্ন ধরনের ভাইরাসের মাধ্যমে এ রোগ হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই রোগ হয় রাইনো ভাইরাসের মাধ্যমে। ঘন ঘন হাঁচি হওয়া, নাক দিয়ে পানি পড়া, সঙ্গে একটু-আধটু কাশি ও সামান্য জ্বর জ্বর এগুলো সর্দির লক্ষণ।
     

    লক্ষণ ও উপসর্গ:

    1) নাক দিয়ে সর্দি গড়িয়ে পড়া
    2) চোখ জলে সিক্ত হয়ে থাকা বা সজল হয়ে থাকা
    3) কাশি
    4) গলা ফুলে ওঠা
    5) গলা ভেঙ্গে যাওয়া, বা কর্কশ শব্দে কথা বলা
    6) হালকা জ্বর
     

    কী করা উচিত:

    সাধারণ ঠাণ্ডা লাগার কোন প্রতিকার নেই, কিন্তু কিছু কিছু চিকিৎসা পদ্ধতি আছে যেগুলো অনুসরণ করে আপনি আপনার এ সংক্রান্ত অস্বস্তি কিছুটা কমাতে পারবেন:

    1) বাসায় অবস্থান করুন, ঠাণ্ডা লাগার প্রথম তিন কিংবা চারদিন কাজে কিংবা স্কুলে না গেলেই ভালো – শুধু যে নিজের বিশ্রাম এবং সেরে ওঠার জন্যেই সেটা ভালো তা নয়, বরং আপনার এই রোগ যেন অন্যদের মধ্যে ছড়াতে না পারে সে জন্যেও এটা ইতিবাচক।
    2) আপনার কষ্ট এবং জ্বরের জন্যে এ্যাসপিরিনের বিকল্প কিছু সেবন করুন। (তবে ১২ বছর বয়সের নিচে কোন শিশুর যদি চিকেন পক্স, ইনফ্লুয়েঞ্জা, কিংবা অন্যান্য কোন রোগ রয়েছে, এবং সেটা ভাইরাস বাহিত বলে আপনি মনে করেন সেক্ষেত্রে তাকে কোনভাবেই এ্যাসপিরিন দেবেন না)।
    3) আপনার গলা যদি ফুলে উঠে থাকে সেক্ষেত্রে লবনাক্ত পানি দিয়ে গলা গারগল করতে পারেন দিনে কয়েকবার।
    4) প্রচুর পরিমাণ তরল পান করুন যাতে পাতলা পায়খানার সমস্যায় আক্রান্ত না হন।
    5) ফার্মাসি থেকে ফার্মাসিস্টের পরামশ্যে স্যালাইন কিংবা সর্দি থেকে নাককে বাঁচাতে নোস ড্রপ বা নাকের ড্রপ কিনে ব্যবহার করতে পারেন।
    6) ধুমপান থেকে বিরত থাকুন, এবং ধুমায়িত স্থান থেকে নিজেকে দূরে রাখুন।
    7) কিছু কিছু গবেষকের মতে ৫০০ মিলিগ্রামের ভিটামিন সি ট্যাবলেট প্রতিদিন একটা করে সেবন করলে সেটা আপনাকে ঠাণ্ডা রোগ জনিত অস্বস্তি এবং কষ্ট থেকে মুক্ত করবে এবং আপনার সেরে ওঠাকে ত্বরান্বিত করবে। তবে মনে রাখবেন, বেশি ভিটামিন সি ক্রমাগত বেশ কিছুদিন খেলে সেটা আপনাকে তীব্রভাবে ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানায় আক্রান্ত করতে পারে।
     

    কখন ডাক্তার দেখাবেন :

    1) যদি আপনার একশ ডিগ্রি বা তার বেশী জ্বর থাকে এবং মুখমণ্ডলে কোথাও ফুলে ওঠে কিংবা কানে তীব্র ব্যথা থাকে, কিংবা আপনার কানে মারাত্মক কোন ঘা বা এরকম কোন রোগ হয়।
    2) যদি আপনার গলা খুব তীব্রভাবে ব্যথা করতে শুরু করে এবং আপনার টনসিল ফুলে ওঠে কিংবা গলার ত্বক আবছাভাবে ধূসর কিংবা হলুদ হয়ে ওঠে, সেক্ষেত্রে আপনার টনসিলিটিস বা কণ্ঠনালীর কোন তীব্র রোগ হয়েছে (স্ট্রেপ থ্রোট)।
    3) যদি আপনার কাশির সাথে ঘন এবং বেরঙ্গের শ্লেষ্মা নির্গত হয়; যদি কাশি দশ দিনেরও বেশি হ্মহায়ী হয়, কিংবা ঠোঁট এবং নখের রঙ্গ পরিবর্তীত হয় সেক্ষেত্রে আপনার হয়তো নিউমোনিয়া হয়েছে।
    4) যদি আপনার জ্বর হয় এবং চারদিনেরও বেশি সময় সে জ্বর হ্মহায়ী হয় কিংবা যদি আপনার ১০২ ডিগ্রিরও বেশি জ্বর হয়।
    5) আপনার যদি মাথা ব্যথা করে এবং একই সাথে মুখমণ্ডলে ব্যথা থাকে, যদি উপরের চোয়াল অতি স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে অর্থাৎ সামান্য নাড়াচাড়াতেই তীব্র ব্যথার সঞ্চার হয়, কিংবা সবুজ, বা হলুদ শ্লেষ্মা যদি আপনার নাক কিংবা মুখ দিয়ে নির্গত হয়; সেটা হলো ব্যাকটেরিয়া বাহিত সাইনুস রোগ এর লক্ষণ।
    6) যদি দশদিনের মধ্যেও আপনার এই ঠাণ্ডা লাগার কোন উন্নতি না হয় বরং সেটা ক্রমান্বয়ে খারাপের দিকেই ধাবিত হতে থাকে।
     

    কীভাবে প্রতিরোধ করবেন:

    1) যেহেতু ঠাণ্ডা লাগাবার ভাইরাসটি হ্যান্ডশেক করার মাধ্যমেও ছড়াতে পারে এবং দরজার হাতল, কিংবা কাউন্টারেও সেটা ঘাপটি মেরে থাকতে পারে অতএব শীতের সময়ে আপনার দুহাত প্রায়ই পরিস্কার করুন। আপনার হাত চোখ, নাক এবং মুখ থেকে দূরে সরিয়ে রাখুন।
    2) প্রচুর পরিমাণে তরল পান করুন।
    3) যেসব মানুষ কাশছে কিংবা সর্দি ঝাড়ছে তাদের থেকে নিরাপদ ব্যবধানে থাকুন।
    4) যেহেতু অতিরিক্ত চাপ, এ্যালার্জি এবং মেয়েদের মাসিকের পর্যায় বা চক্রটা আপনাকে ঠাণ্ডায় আক্রান্ত করতে পারে, তাই পর্যাপ্ত বিশ্রাম গ্রহণ করুন এবং নিজের যত্ন নিন।


    সংগৃহীত।